বাস্তিল দুর্গের পতনের ইতিহাস

1788 সালে কৃষির অবনতি ও 1788-89 সালে অভূতপূর্ব শীতের প্রকোপের ফলে ফ্রান্সের দারুন খাদ্যাভাব দেখা যায়| প্যারিসে সেই সময় দারুন খাদ্যাভাব এবং ফ্রান্সের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অগণিত দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জনগণ দলে দলে প্যারিসে আগমন করতে শুরু করলে, সেখানে এক দারুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়| 

দরিদ্র জনগণ আশা করেছিল যে, "স্টেট জেনারেল" মজুরীর হার বৃদ্ধি ও খাদ্য দ্রব্যের মূল্য হ্রাস করবে, কিন্তু তা হয়নি| একদিকে সম্রাট ষোড়শ লুই জাপান, সুজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশ থেকে সৈন্য আমদানি করলে প্যারিসের জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে| প্যারিসের পৌর শাসন ভেঙে পড়ে| 1789 সালের 11 জুলাই রানীর প্ররোচনায় ষোড়শ লুই জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করলে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে|

বাস্তিল-দুর্গের-পতনের-ইতিহাস
ফ্রান্সের মানচিত্র
বাস্তিল-দুর্গের-পতনের-ইতিহাস
কৃষক


এই সময় প্যারিসের শ্রমিক, কারিগর এবং গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মানুষ খাদ্যের দাবিতে এক প্রবল দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে দেয়| এই দাঙ্গায় কৃষক ও বুর্জোয়া শ্রেণী যোগ না দিলেও প্যারিসের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য মিছিলের উপর অশ্বারোহী বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়| কিন্তু প্যারিসের সামরিক অধিনায়ক স্বসৈন্য সরে দাঁড়ালে আপাতত রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ জনতার হাতে চলে যায়| রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড গড়ে ওঠে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান লুণ্ঠিত হতে থাকে|

ইতিমধ্যে বাস্তিল দুর্গের বহু অস্ত্র জমা আছে বলে গুজব ছড়ায়| উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে 1789 সালের 14 ই জুলাই আরোও অধিক পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উত্তেজিত জনতা স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল কারা দুর্গটি আক্রমণ করে| কারাগারে বন্দীদের মুক্ত করে এবং কারারক্ষীদের হত্যা করে বাস্তিল দুর্গ অধিকার করে নেয়|


বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব

ঐতিহাসিক গুডউইনের ভাষায়, বিপ্লবের অপর কোন ঘটনায় বাস্তিলের পতন এর মতো বহুমুখী ও সুদূর প্রসারী ছিল না| বাস্তিল দুর্গটি ছিল স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও শোষক সামন্ততন্ত্রের প্রতীক| বিনা বিচারে ধরে আনা ব্যক্তিদের এই বিশাল দুর্গে বন্দী রেখে রাজা ও অভিজাতরা তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন| এই দুর্গের পতন রাজতন্ত্র ও অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনগণের উল্লেখযোগ্য রায় বলে মনে করা হয়| ফ্রান্সের ইতিহাসে এই দিনটি জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়| 

বাস্তিল-দুর্গের-পতনের-ইতিহাস
বিদ্রোহ


বাস্তিলের পতনের পর সম্রাট ষোড়শ লুই জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন| সম্রাট প্যারিস থেকে সৈন্য অপসারণ করে নেন| অর্থমন্ত্রী নেকারকে পুনরায় নিয়োগ করেন|

বাস্তিলের পতন অভিজাতদের মনে ভীতির সঞ্চার করে| পলিগন্যাক, আটোয়্যাম প্রমুখ অভিজাতরা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন| প্যারিসের শাসনভার বুর্জোয়াদের হাতে চলে যায়| তারা প্যারিসে "কমিউন" গঠন করে প্যারিসের পৌর শাসন পরিচালনা করতে থাকে| প্যারিসের অনুকরণে ফ্রান্সের অন্যান্য স্থানে ও অনুরূপ কমিউন বা পৌর পরিষদ গড়ে উঠে| বিপ্লবী ল্যাফায়েৎ এর নেতৃত্বে জাতীয় "রক্ষী বাহিনী" গঠিত হয়|

বাস্তিলের পতনের সংবাদ গ্রামাঞ্চলেও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে| গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা সামন্ত প্রভুদের শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়| অনেকে সামন্ত কর দিতে অস্বীকার করে| শেষ পর্যন্ত ফরাসি সংবিধান সভা 4 ঠা আগস্ট 1789 সালে আইন পাশ করে সামন্ত প্রথার বিলোপ ঘটায়|


তথ্যসূত্র

  1. অধ্যাপক গোপালকৃষ্ণ পাহাড়ি, "ইউরোপের ইতিবৃত্ত"
  2. Georges Lefebvre, "The French Revolution".
  3. Hilaire Belloc, "The French Revolution".

সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    Need Help..?

    Ask Questions - (click here)

    Mock Test

    Visit our Mock Test Episodes - (click here)

    Share this post with your friends

    Like and support our Facebook page
    Previous
    Next Post »