Tuesday, 13 November 2018

মধ্যযুগীয় ভারতের ভক্তি আন্দোলনের উদ্ভব এবং বিকাশ | The origin and development of Bhakti movement in medieval India

মধ্যযুগীয় ভারতের ভক্তি আন্দোলনের উদ্ভব এবং বিকাশ | The origin and development of Bhakti movement in medieval India

ভক্তি বলতে বুঝায়, ঈশ্বরের কাছে ভক্তের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ| ত্রয়োদশ শতকের নাগাদ ধর্মীয় ভক্তিবাদের ধারা দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারতে সম্প্রসারিত হয়| সহজ, সরল এবং একান্তভাবে মানবিক ভক্তিবাদী তত্ত্ব সমাজের এক বৃহত্তর অংশে আন্তরিকতার সাথে গৃহীত হয়| তৎকালীন সমাজ, চিন্তা, সাহিত্য, সংস্কৃতির উপর ভক্তিবাদ যে প্রভাব ফেলে তাকে এককথায় আন্দোলন বলা চলে| ঐতিহাসিক শ্রীবাস্তব বলেছেন, "বৌদ্ধ ধর্মের পতনের পর আমাদের দেশে ভক্তিবাদী আন্দোলনের মত এক ব্যাপক ও জনপ্রিয় আন্দোলন আর সংঘটিত হয়নি"|

Monday, 12 November 2018

সাম্প্রদায়িকতার মতাদর্শ | The ideology of communalism

সাম্প্রদায়িকতার মতাদর্শ | The ideology of communalism

সাম্প্রদায়িকতার অর্থ সহজেই ব্যক্ত করা সম্ভব নয়| পশ্চিমী লেখকদের মতে, "বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থায় একটি জনসম্প্রদায় নিজেদের অভিন্ন পরিচয় অভিব্যক্তির জন্য রাজনীতির ক্ষেত্রে দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের জাহির করতে উদ্যোগী হয়, এই উদ্যোগী হল সাম্প্রদায়িকতা"| বিপান চন্দ্র তার "communalism in Modern Indian" শীর্ষক গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন| তার মতানুসারে সাম্প্রদায়িকতার ধারণা একটা বিশেষ বিশ্বাস বা প্রত্যয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত| এই বিশ্বাস অনুসারে বলা যায় যে, সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় পার্থক্য হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক, অর্থাৎ একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর লাভ অপর একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ক্ষতি হিসেবে প্রতিপন্ন হয়| বিপান চন্দ্রের ব্যাখ্যা থেকে মনে হয় যে, ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে পারস্পরিক বিরোধিতায় হলো সাম্প্রদায়িকতা| সাম্প্রদায়িকতা ধারণার মধ্যে রাজনৈতিক বঞ্চনা বর্তমান এবং ধ্যান-ধারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয়টি জাতি রাষ্ট্রের পরিবর্তে ধর্মীয় সম্প্রদায়গত বিচার-বিবেচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত, নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়| এককথায় সাম্প্রদায়িকতা মানুষের মধ্যে একটা ভ্রান্ত চেতনা বা উন্মাদনার সৃষ্টি করে|

Sunday, 11 November 2018

জৈন ধর্মের বৈশিষ্ট্য | features of Jainism

জৈন ধর্মের বৈশিষ্ট্য | features of Jainism

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে যে দুটি ধর্ম ভারতীয় মানস জগতকে প্রভাবিত করেছিল সেগুলির মধ্যে বৌদ্ধ (Buddhists) ও জৈন (jainধর্ম  ছিল অন্যতম| বৌদ্ধ ধর্ম সম্প্রসারিত হয়েছিল ভারতের বাইরে এবং এতে বারেবারে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছিল, কিন্তু জৈন ধর্ম ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল| জৈন ঐতিহ্য অনুসারে জৈন তীর্থঙ্করের সংখ্যা 24 এবং জৈন ধর্মের চারটি মূল শিক্ষা ছিল, যথা- হিংসা না করা, মিথ্যা কথা না বলা, চুরি না করা এবং সম্পত্তি অর্জন না করা, এগুলি চতুর্যাম নামে পরিচিত ছিল|

Saturday, 10 November 2018

ঋক বৈদিক যুগ এবং পরবর্তী বৈদিক যুগের ধর্মীয় ভাবনা | Religious beliefs of Rig vedic and Later vedic period

ঋক বৈদিক যুগ এবং পরবর্তী বৈদিক যুগের ধর্মীয় ভাবনা | Religious beliefs of Rig vedic and Later vedic period

ঋক বৈদিক যুগের ধর্ম সম্পর্কে বহু তথ্য প্রচলিত আছে| ঋগ্বেদ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ| ঋকবেদে হাজার 28 টি সূক্ত থেকে প্রথম দিকে আযদের ধর্মীয় জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়| প্রকৃতি ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের ধর্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা যুগিয়ে ছিল| সে যুগের মানুষ প্রকৃতিকে পূজো করত| তাদের এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছিল যে পার্থিব সমস্ত বিষয় বা বস্তুর পেছনে কোন অলৌকিক প্রাণের অস্তিত্ব আছে| তাই পার্থিব বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর ঘনিষ্ঠ সংযোগকে কল্পনা করে নিয়েছিল|

Thursday, 8 November 2018

চাঁচল সিহিপুর মুক্তকেশরী এবং ধন্বেশ্বরী কালী পূজা | chanchal shripur Muktakeshri and Dhoneshwari Kali Puja

চাঁচল সিহিপুর মুক্তকেশরী এবং ধন্বেশ্বরী কালী পূজা | chanchal shripur Muktakeshri and Dhoneshwari Kali Puja

মালদা জেলার চাঁচল 1 নম্বর ব্লকের অন্তর্গত সিহিপুর গ্রামের প্রায় 152 বছর ধরে চলে আসা মুক্তকেশরীধন্বেশ্বরী কালী পূজার এক নিজস্ব ইতিহাস ও এক আলাদা মহত্ব রয়েছে| আজও এই দুই কালী পূজাকে ঘিরে গ্রামবাসীর যথেষ্ট উৎসাহ ও সহযোগিতা রয়েছে| সাধারণত প্রতিবছর এই দুই কালী পূজা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে| প্রতিবছর কার্তিক মাসে অমাবস্যা তিথিতে মুক্তকেশরী কালী পূজা হয় এবং ধন্বেশ্বরী কালী পূজা প্রতিবছর চৈত্র মাসে অমাবস্যা তিথিতে  হয়ে থাকে|

Tuesday, 6 November 2018

মধ্যযুগের জলসেচ ব্যবস্থা এবং পার্সিয়ান হুইল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মধ্যযুগের জলসেচ ব্যবস্থা এবং পার্সিয়ান হুইল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ভারতবর্ষের শেষ শতকে মধ্যভাগের আগে পর্যন্ত মাটির নিচের জল বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল গুলিতে খুব নিকটে পাওয়া যেত| বিশেষ করে বর্ষাকালে কূপ খূড়ে যাকে কচ্ছপ কূপ বলা হতো, তা থেকে জল তোলা হত| ভারতবর্ষে প্রথম সিন্ধু সভ্যতাতে মাটির পাট ব্যবহার করা হতো, কেবলমাত্র মহেঞ্জোদারোতেই যে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হত তা নয়, কড়াচির কাছে আল্লাহ দীনোতে এই পদ্ধতিতে শেষ করা হতো| তবে তখন জলের পাত্রগুলিকে সরাসরি হাত দিয়ে তোলা হতো, সে সময় জল তোলার কোন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি| পরবর্তীকালে 1000 খ্রিঃ পূর্বাব্দে নাগাদ ঋক বৈদিক যুগে জল তোলার চাকা ব্যবহার হতো, যার নাম ছিল অশ্মচক্র| পরবর্তীকালে বৌদ্ধ গ্রন্থদীতে নরিয়ার অনুরূপ পদ্ধতি ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়|

Saturday, 27 October 2018

চাঁচল পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপ এর সম্পূর্ণ ইতিহাস  | Full history of chanchal paharpur chandi mandap

চাঁচল পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপ এর সম্পূর্ণ ইতিহাস | Full history of chanchal paharpur chandi mandap

পাহাড়পুর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার চাঁচল 1 নম্বর ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম| পাহাড়পুর গ্রামটি সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার চণ্ডীমণ্ডপটি|সাধারনত লোকমুখে এই চণ্ডীমণ্ডপ "চাঁচল পাহাড়পুরে চণ্ডীমণ্ডপ" নামে পরিচিত| প্রায় তিনশো বছর ধরে প্রতি বছর একই নিয়ম-নীতি ধরে এই চণ্ডীমণ্ডপে মা চণ্ডীর পূজা করা হয়, সুতরাং এর একটি নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে|