Sunday, 9 December 2018

আবু রায়হান আল বিরুনি | Al-Biruni

আবু রায়হান আল বিরুনি | Al-Biruni

ইসলামের আগমন ও ভারতের নতুন ইতিহাস রচনার বিকাশ অনেকাংশে আবু রায়হান আল বিরুনি অথবা আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি এর রচনার উপর নির্ভরশীল| তিনি মাহমুদ গজনভির সঙ্গে ভারতবর্ষে এসেছিলেন এবং তিনি ভারতের ইতিহাস রচনা করেছেন| তিনি ভারতে উপরে কমপক্ষে 12 খানি গ্রন্থ রচনা করেন এবং গণিত, অর্থনীতি, দর্শন এবং ভাষাতত্ত্বের উপর ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলির অনুবাদ করেন|

আবু-রায়হান-আল-বিরুনি- Al-Biruni

আবু রায়হান আল বিরুনি


আল বিরুনির বিখ্যাত রচনা হলো তাহকিক-ই-হিন্দ| এই গ্রন্থ পাঠ করলে বোঝা যায়, তিনি কেবলমাত্র যা দেখেছেন তা ব্যাখ্যা করেছেন এমন নয়| তিনি যা উপলব্ধি করেছেন তা তিনি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যা বুঝেছেন ভারত সম্পর্কে তা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন| সুতরাং এই গ্রন্থটি ইতিহাস অপেক্ষায় আরো কিছু|

সমালোচকরা বলেছেন, এক মুসলমান লেখক হিসেবে তিনি হিন্দু দর্শনের প্রতিটি দিককে তার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং 18 টি অধ্যায়ে হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী নিরাকার ঈশ্বর এবং তার প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেছেন|

আল বিরুনির ইতিহাস কিন্তু ত্রুটি মুক্ত নয়| তার জীবনীকার জেমস ব্রান্ট অভিযোগ করেছেন যে, তিনি যা চোখে দেখে নেই তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পন্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে এসেছেন| তার ভারতের ক্রীতদাস ব্যবস্থা, অর্থনীতির ধারণা অথবা হিন্দু আইনের শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না|

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি মধ্য এশিয়ার ইসলামীক রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রকাঠামো তুলনা করেছেন| তিনি ভারতের সামন্ততন্ত্র ব্যবস্থা, বিনিময় ব্যবস্থা এবং প্রশাসন সম্পর্কে সহমত প্রদর্শন করেছেন| তাই তাহকিক-ই-হিন্দ সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রচিত হয়েছে ফলে এটি ইতিহাসের প্রাথমিক চাহিদা পূরণ করতে পারিনি| অর্থাৎ ঐতিহাসিক তথ্য এবং উৎস সংঘ জ্ঞান অপেক্ষা যে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ তা তার গ্রন্থে অনুপস্থিত|

               .......................................


Sunday, 2 December 2018

দাদাভাই নওরোজি মতে, ব্রিটিশ ভারতের জাতীয় আয় নির্ণয় | According to Dadabhai Naoroji, British national income determination

দাদাভাই নওরোজি মতে, ব্রিটিশ ভারতের জাতীয় আয় নির্ণয় | According to Dadabhai Naoroji, British national income determination

ব্রিটিশ ভারতে জাতীয় আয় নির্ণয় করার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যার নাম উঠে আসে তিনি হলেন দাদাভাই নওরোজি| "wants and means of India" প্রবন্ধে দাদাভাই নওরোজি ভারতের জাতীয় উৎপাদন 300 মিলিয়ন পাউন্ড হিসেবে দেখিয়েছেন| তাঁর মতে সেই সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল 150 মিলিয়ন, সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেক ভারতবাসীর মাথাপিছু আয় মাত্র 20 টাকা ছিল বলে তিনি মনে করতেন|

Saturday, 1 December 2018

অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বা Economic Nationalism

অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বা Economic Nationalism

ভারতের জাতীয়তাবাদের উন্মেষ তথা বিকাশের অনেকগুলি ক্ষেত্র ছিল| সামাজিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক বঞ্চনা এগুলি ছাড়াও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক শোষণ| এই শোষণের বিরুদ্ধেই ভারতীয় জাতীয়তাবাদীরা গড়ে তুলেছিল এক প্রবল প্রতিবাদ, যা পরিচিত "অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ" বা "Economic Nationalism" নামে|

Friday, 30 November 2018

রুখমাবাঈ মামলার ইতিহাস | History of Rukhmabai Case

রুখমাবাঈ মামলার ইতিহাস | History of Rukhmabai Case

ঔপনিবেশিক যুগে মেয়েদের জীবন সম্পর্কে এবং আইনগত ধারণা বা সম্মতি বিবাহ বা অন্যান্য ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল| 1862 সালে সম্মতি বিষয়ক বিতর্ক ভারতবর্ষে জনগণের চর্চার একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, কেননা ওই বছর "সম্মতিসূচক বিল" পাস হয়| এই বিলে মেয়েদের বিবাহের বয়স এবং যৌনতা বিষয়ক সম্মতি বয়স 10 বছর ধার্য করা হয়| ভারতীয় বিবাহ ব্যবস্থা অনুযায়ী বয়স কোন আইনগত বৈধতার বিষয় ছিল না| বিভিন্ন কারণে সুদূর অতীত থেকে আজ পর্যন্ত বিবাহের আয়োজন করা হয়ে থাকে| বাল্যবিবাহের প্রসারের পেছনে বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট সংশ্লিষ্ট পুরুষ বা নারীর সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং গুরুত্বপূর্ণ ছিল পাত্র পাত্রীর বাবা, ভাই বা অভিভাবকদের সম্মতি| এই অবস্থায় সম্মতি সম্পর্কিত ব্রিটিশ প্রশাসনিক আইনের সূত্রপাত বিবাহ এবং যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, এ প্রসঙ্গে 1887 খ্রিস্টাব্দে রুখমাবাঈ মামলা গুরুত্বপূর্ণ ছিল|

Thursday, 29 November 2018

জ্যোতিরাও ফুলে এবং সত্যশোধক সমাজ | Jyotirao phule and satya shodhak samaj

জ্যোতিরাও ফুলে এবং সত্যশোধক সমাজ | Jyotirao phule and satya shodhak samaj

উনিশ শতকের মধ্যভাগে ভারতে নবজাগরণের সমাজ সংস্কারকদের মধ্যে জ্যোতিরাও ফুলে ছিলেন অন্যতম| ভারতের নিচুতলার মানুষের মধ্যে তিনি নবজাগরণের সূচনা করেছিলেন| তথাকথিত অবহেলিত মানব গোষ্ঠীকে নিজেদের অধিকার, সামাজিক সাম্য ও ন্যায় বিচার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিলেন তিনি|

Wednesday, 28 November 2018

আফ্রিকার নবজাগরণ এবং মুক্তি সংগ্রাম | African Renaissance and Liberation Struggle

আফ্রিকার নবজাগরণ এবং মুক্তি সংগ্রাম | African Renaissance and Liberation Struggle

আফ্রিকার নবজাগরণ এবং মুক্তি সংগ্রাম বিংশ শতাব্দীর এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা| অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্র আফ্রিকা মহাদেশে উপনিবেশ স্থাপন করে সেখানকার জনগণের উপর সাম্রাজ্যবাদী শোষণ চালায়| পাশাপাশি এই পাশ্চাত্য রাষ্ট্রশক্তি আফ্রিকার জনগণের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন, শিল্প কলকারখানা স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে এক সভ্যতার আলো বয়ে নিয়ে আসে| এই সকল সংস্কার সমূহ ও অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গ জাতি কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্য ও শোষণমূলক আচরণ ইত্যাদির ফলে আফ্রিকা বাসীদের মধ্যে এক জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে তাদের মুক্তি সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করেছিল|
ওপেক কি ? | What is OPEC ?

ওপেক কি ? | What is OPEC ?

1960 সালের 14 সেপ্টেম্বর তৈল উৎপাদন ও বিপণনকারী তৃতীয় বিশ্বভুক্ত রাষ্ট্রগুলি তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব অর্জনের জন্য Organization of the Petroleum Exporting Countries (OPEC বা ওপেক) গঠন করে| প্রাথমিক পর্বের ওপেকের সদস্য রাষ্ট্র ছিল- ইরাক, ইরান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ভেনেজুয়েলা| পরবর্তীকালে কাতার (1961), লিবিয়া (1962), ইন্দোনেশিয়া (1962) , সংযুক্ত আরব আমিরাত (1967), আলজেরিয়া (1969), নাইজেরিয়া (1971) ইকুয়েডর (1973), গ্যাবন (1975), অ্যাঙ্গোলা (2007), বিষুবীয় গিনি (2017) ও কঙ্গো (2018) ওপেক- এ যোগ দেন| সাধারনত ওপেক একটি আন্তঃসরকার সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে|