Tuesday, 2 October 2018

ইতিহাসের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্ক

ইতিহাসের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্ক বেশ গভীর| ইতিহাসের এক বড় অংশ জুড়ে আছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড| প্রাচীন বা মধ্যযুগে সব ইতিহাস জুড়ে আছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা, রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের কাহিনী, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও শাসনের কথা| রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সাংবিধানিক, আইনগত, কূটনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের কাহিনী| রাজনৈতিক তত্ত্বের বিন্যাস ও বিবর্তন ঘটেছে ইতিহাসের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে| রাজনৈতিক বিজ্ঞানী বা দার্শনিক কোন বিশেষ রাজনৈতিক তত্ত্বের জন্ম দিয়েছেন ইতিহাসের নানা ব্যাখ্যার সাহায্যে| লক, রুশো, হেগেল বা মার্কস প্রত্যেকেই ইতিহাসের আলোকে তাদের তত্ত্বে জন্ম দিয়েছেন এবং আজ তা বিশ্ববন্দিত হয়েছে|

রাজনৈতিক তথ্য প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসে কোন কোন ধারা ব্যাখ্যা করা হয় এবং কখনো কখনো বা কোন বিশেষ সময়ের কোন দেশের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর ভিত্তি রচিত করা হয়| তাই বলা যায়, " ইতিহাস হল অতীত এর রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনীতি হলো ভবিষ্যতের ইতিহাস"|

ইতিহাসের-সাথে-রাষ্ট্রবিজ্ঞানের-সম্পর্ক

গ্রন্থ সমূহ


এক সময় মনে করা হতো ইতিহাস হল প্রধানত রাজনীতির ইতিহাস| অতীতকালের রাজনৈতিক কাহিনী হলো বর্তমানের ইতিহাস| ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বের বিভিন্ন রাজনীতির পরিচয় পাওয়া যায়| রাষ্ট্র কখনো রাজতান্ত্রিক, কখনো অভিজাততান্ত্রিক, আবার কখনও গণতান্ত্রিক| স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের নজির ইতিহাসে কম নয়| বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় অল্প মুষ্টিমেয় মানুষ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শাসন করেছে, সব সুযোগ-সুবিধা একচেটিয়া ভোগ করেছে| গণতন্ত্রেও দেখা যায় সব মানুষ ভোট দেয়, শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চাবিকাঠি মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে চলে যায়| ইতিহাসে এই মুষ্টিমেয় মানুষের খোঁজ খবর রাখে, তাদের স্ববিস্তারে লিপিবদ্ধ করে| আজকের গণতান্ত্রিক যুগেও রাজনীতির ইতিহাস অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে| প্রাচীনকালের রোমান ঐতিহাসিক পলিবিয়াস লিখেছেন যে, ইতিহাস রাজনীতির শিক্ষা দেয়| আধুনিক কালে লর্ড অ্যাক্টন থেকে জন মিলি সকলে ইতিহাসে রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন| রাজনীতি ছাড়া ইতিহাস হয় না | জর্জ মেকলে ট্রেভেলিয়া ইংল্যান্ডের সামাজিক ইতিহাস লেখার সময় রাজনৈতিক ইতিহাসের কাঠামো ব্যবহার করেছেন| এছাড়াও ইতিহাস মনুষ্য সমাজের ঘটনা, প্রতিষ্ঠানের কথা নথিবদ্ধ করে রাখে| ইতিহাসেই একমাত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম, বিবর্তন, সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা পর্যাক্রমে রক্ষিত থাকে| ভারতের সংবিধানে জন্ম ও বিবর্তন জানতেও আমাদের ইতিহাসের সাহায্য নিতে হবে| রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ হলো সাংবিধানিক ইতিহাস|

উপসংহারে বলা যেতে পারে যে, রাজনীতির গবেষণায় ইতিহাসের সাহায্য জরুরি| রাজনীতি ছাড়া আবার ইতিহাসের আলোচনা অসম্পূর্ণ| মনুষ্যত্বের ধারণা রাজনীতি ও ইতিহাস যৌথ উদ্যোগ জরুরি| রাজনৈতিক ধারণা, চিন্তা, উদ্দেশ্য প্রত্যেকটি ইতিহাস রচনার সাহায্য করে| আমেরিকার বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব প্রত্যেকটি দেশের ইতিহাসের ধারা বদলে দিয়েছে, কখনো প্রত্যক্ষভাবে আবার কখনো পরোক্ষভাবে| তাই সর্বশেষে বলা যেতে পারে, ইতিহাস ও রাজনীতি উভয়ের লক্ষ্য থাকে মানুষের কল্যাণ কামনা করে সমাজের ঐক্য নিয়ে আসে|

              ...................................................

Thank you so much for reading the full post. Hope you like this post. If you have any questions about this post, then please let us know via the comments below and definitely share the post for help others know.

Related Posts

0 Comments: