ইতিহাসের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্ক

ইতিহাসের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্ক বেশ গভীর| ইতিহাসের এক বড় অংশ জুড়ে আছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড| প্রাচীন বা মধ্যযুগে সব ইতিহাস জুড়ে আছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা, রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের কাহিনী, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও শাসনের কথা| রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সাংবিধানিক, আইনগত, কূটনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের কাহিনী|

রাজনৈতিক তত্ত্বের বিন্যাস ও বিবর্তন ঘটেছে ইতিহাসের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে| রাজনৈতিক বিজ্ঞানী বা দার্শনিক কোন বিশেষ রাজনৈতিক তত্ত্বের জন্ম দিয়েছেন ইতিহাসের নানা ব্যাখ্যার সাহায্যে| লক, রুশো, হেগেল বা মার্কস প্রত্যেকেই ইতিহাসের আলোকে তাদের তত্ত্বে জন্ম দিয়েছেন এবং আজ তা বিশ্ববন্দিত হয়েছে|

রাজনৈতিক তথ্য প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসে কোন কোন ধারা ব্যাখ্যা করা হয় এবং কখনো কখনো বা কোন বিশেষ সময়ের কোন দেশের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর ভিত্তি রচিত করা হয়| তাই বলা যায়, " ইতিহাস হল অতীত এর রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনীতি হলো ভবিষ্যতের ইতিহাস"|

ইতিহাসের-সাথে-রাষ্ট্রবিজ্ঞানের-সম্পর্ক

গ্রন্থ সমূহ


এক সময় মনে করা হতো ইতিহাস হল প্রধানত রাজনীতির ইতিহাস| অতীতকালের রাজনৈতিক কাহিনী হলো বর্তমানের ইতিহাস| ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বের বিভিন্ন রাজনীতির পরিচয় পাওয়া যায়| রাষ্ট্র কখনো রাজতান্ত্রিক, কখনো অভিজাততান্ত্রিক, আবার কখনও গণতান্ত্রিক| স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের নজির ইতিহাসে কম নয়| বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় অল্প মুষ্টিমেয় মানুষ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শাসন করেছে, সব সুযোগ-সুবিধা একচেটিয়া ভোগ করেছে|

গণতন্ত্রেও দেখা যায় সব মানুষ ভোট দেয়, শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চাবিকাঠি মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে চলে যায়| ইতিহাসে এই মুষ্টিমেয় মানুষের খোঁজ খবর রাখে, তাদের স্ববিস্তারে লিপিবদ্ধ করে| আজকের গণতান্ত্রিক যুগেও রাজনীতির ইতিহাস অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে| প্রাচীনকালের রোমান ঐতিহাসিক পলিবিয়াস লিখেছেন যে, ইতিহাস রাজনীতির শিক্ষা দেয়| আধুনিক কালে লর্ড অ্যাক্টন থেকে জন মিলি সকলে ইতিহাসে রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন| রাজনীতি ছাড়া ইতিহাস হয় না | জর্জ মেকলে ট্রেভেলিয়া ইংল্যান্ডের সামাজিক ইতিহাস লেখার সময় রাজনৈতিক ইতিহাসের কাঠামো ব্যবহার করেছেন|

এছাড়াও ইতিহাস মনুষ্য সমাজের ঘটনা, প্রতিষ্ঠানের কথা নথিবদ্ধ করে রাখে| ইতিহাসেই একমাত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম, বিবর্তন, সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা পর্যাক্রমে রক্ষিত থাকে| ভারতের সংবিধানে জন্ম ও বিবর্তন জানতেও আমাদের ইতিহাসের সাহায্য নিতে হবে| রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ হলো সাংবিধানিক ইতিহাস|

উপসংহারে বলা যেতে পারে যে, রাজনীতির গবেষণায় ইতিহাসের সাহায্য জরুরি| রাজনীতি ছাড়া আবার ইতিহাসের আলোচনা অসম্পূর্ণ| মনুষ্যত্বের ধারণা রাজনীতি ও ইতিহাস যৌথ উদ্যোগ জরুরি| রাজনৈতিক ধারণা, চিন্তা, উদ্দেশ্য প্রত্যেকটি ইতিহাস রচনার সাহায্য করে| আমেরিকার বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব প্রত্যেকটি দেশের ইতিহাসের ধারা বদলে দিয়েছে, কখনো প্রত্যক্ষভাবে আবার কখনো পরোক্ষভাবে| তাই সর্বশেষে বলা যেতে পারে, ইতিহাস ও রাজনীতি উভয়ের লক্ষ্য থাকে মানুষের কল্যাণ কামনা করে সমাজের ঐক্য নিয়ে আসে|


সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    Note: Email me for any questions:

    :-Click here:-.

    Note:- please share your feedback:

    :--Click here:--.

    Your Reaction ?

    Share this post with your friends

    please like the FB page and support us

    Previous
    Next Post »

    Top popular posts