ইতিহাসের সাথে দর্শনের সম্পর্ক

ইতিহাসের সঙ্গে দর্শনের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত| ট্রেভেলিয়ান তাই বলেছেন, "ইতিহাস কেবল একটি বিষয় নয় বরং সব বিষয়ের আধার"| ফলে দর্শনের সঙ্গে ইতিহাসের সম্বন্ধ থাকা খুব স্বাভাবিক| দর্শনের ব্যাখ্যাতেও ইতিহাসের সাহায্য নেওয়া হয়| দর্শনের বিবর্তনে বা দর্শন কিভাবে আজকের অবস্থায় উপনীত হলো সেই সন্ধান একমাত্র সম্ভব ইতিহাসের আলোকে|

ইতিহাস ও দর্শন উভয় বিষয়ের সত্যান্বেষনে তর্কে আশ্রয় নেন| দর্শন যেমন প্রধানত অতীন্দ্রিয় সত্তাকে ও জ্ঞান তত্ত্বকে কাজে লাগায়| তদ্সত্যেও দার্শনিক বিজ্ঞান ও দার্শনিক ইতিহাসের সাহায্যে দর্শন নিজেকে বর্ণিত করে| দর্শনে যে ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ইতিহাসের জ্ঞানকে কাজে লাগানো হয়| যেমন ভারতীয় ও পাশ্চাত্য দর্শন ব্যাখ্যা করা বা এদের উৎপত্তি ও বিবর্তন এর কাহিনী রচনা করতে ইতিহাসের উপর নির্ভর করতে হয়েছে|

চার্বাক দর্শন বা ন্যায় দর্শনের তুলনামূলক আলোচনা ও ইতিহাসের ধারণা ছাড়া অসম্ভব| তেমনি ইতিহাসের বেশ কিছু ক্ষেত্র আছে যা দর্শনের স্বচ্ছ ধারণা ছাড়া অসম্ভব| যেমন ইতিহাসে বেশ কিছু প্রশ্ন আছে, ঐতিহাসিক ঘটনা কি? ইতিহাস কি?  ইতিহাসের ব্যাখ্যার বৈধতা? ইতিহাস কি আইন প্রণয়ন করতে পারে? ইত্যাদি ব্যাখ্যা দার্শনিক ধারণা ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়|

ইতিহাসের-সঙ্গে-দর্শনের-সম্পর্ক

ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস



সুতরাং বলা যেতে পারে, ইতিহাস ও দর্শন পরস্পরের প্রতি সম্পৃক্ত হয়ে আছে| ঐতিহাসিক জ্ঞান আমাদের দর্শনের বিবর্তনকে বুঝতে সাহায্য করে, আবার অন্যদিকে দার্শনিক পদ্ধতি সহযোগে আমরা ইতিহাসের গভীর জ্ঞানের সন্ধান পায়| সভ্যতার আদিকালের ইতিহাস কিভাবে কাজ করেছে তা দার্শনিক নানা পদ্ধতির সাহায্যে আমাদের কাছে উন্মোচিত হয়েছে|


আবার দর্শনের সন্দেহবাদ ঐতিহাসিককে যেকোন বিষয়ে প্রখোর যাচাই করে গ্রহণ করতে শেখাই| সত্যানুসন্ধানে এই সন্দেহবাদী ধ্যান-ধারণা ঐতিহাসিককে বিশেষভাবে সাহায্য করে| ফলে ইতিহাস যা ঐতিহাসিককের হাত ধরে প্রকাশ পায় তা সর্বাঙ্গে সত্য হয়ে ওঠে| দর্শনের এই বিশেষ শাখা ইতিহাসের ধারনাকে সত্যনিষ্ঠ করে আমাদের কাছে প্রকাশ প্রতিষ্ঠা করে| যখনি কোন তথ্য আরোহন বা খুঁজে পাওয়া হয় তাকে বারবার প্রশ্ন করে তবেই ইতিহাসবিদ তার গ্রহণযোগ্যতাকে মেনে নেন|

অন্যদিকে দর্শনের শাখা তর্কবিদ্যা ইতিহাসের তথ্যকে বিজ্ঞান সম্মতভাবে উপস্থাপিত করতে বিশেষ সহযোগিতা করে| ঘটনাটি কতটা যোগ্য এবং সঠিক তার হদিস পাওয়া যায় তর্ক বিদ্যার নানা কৌশল প্রয়োগে| ফলে আজ আর ঐতিহাসিকদের মানতে দ্বিধা নেই যে ভালো, সত্য ইতিহাস রচনা করতে গেলে তাকে দর্শনের সাহায্য নিতে হবে|

ঠিক তেমনিভাবে দর্শনের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গেলে ঐতিহাসিক পদ্ধতির প্রয়োগ আবশ্যক| দর্শনের এমন অনেক শাখা আছে যার বিবর্তনের রূপরেখা তৈরিতে ইতিহাসের জ্ঞান অপরিহার্য| প্রাচীন গ্রিস বা রোমের দর্শনের কাহিনী ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে| ঠিক তেমনভাবে হরপ্পা সভ্যতার দার্শনিক ভিত্তি ঐতিহাসিকরা তাদের রচনায় আলোচনা করেছেন| ফলে ইতিহাস দর্শনের পূর্ণাঙ্গ ধারণা অস্বচ্ছ এবং দর্শনের ধারণা ছাড়া ইতিহাসের জ্ঞান অসম্পূর্ণ|


সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    নবীনতর পূর্বতন
    👉 Join Our Whatsapp Group- Click here 🙋‍♂️
    
        
      
      
        👉 Join our Facebook Group- Click here 🙋‍♂️
      
    
    
      
    
       
      
      
        👉 Like our Facebook Page- Click here 🙋‍♂️
    
    
        👉 Online Moke Test- Click here 📝📖 
    
    
        
      
               
    
     Join Telegram... Family Members
      
         
                    
                    
    
    
    
    
    
    
    

    টেলিগ্রামে যোগ দিন ... পরিবারের সদস্য

    
    
    
    
    
    
    
    
    
    

    নীচের ভিডিওটি ক্লিক করে জেনে নিন আমাদের ওয়েবসাইটটির ইতিহাস সম্পর্কিত পরিসেবাগুলি

    
    

    পরিক্ষা দেন

    ভিজিট করুন আমাদের মক টেস্ট গুলিতে এবং নিজেকে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুত করুন- Click Here

    আমাদের প্রয়োজনীয় পরিসেবা ?

    Click Here

    ইমেইলের মাধ্যমে ইতিহাস সম্পর্কিত নতুন আপডেটগুলি পান(please check your Gmail box after subscribe)

    নতুন আপডেট গুলির জন্য নিজের ইমেইলের ঠিকানা লিখুন:

    Delivered by FeedBurner