Tuesday, 27 November 2018

সার্ক এর উদ্দেশ্য | The objective of SAARC

SHARE
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিন্যাসের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে| এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর অধিক অত্যধিক আরোপ এবং আঞ্চলিক সংস্থা গঠনের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্যোগ ও উৎসাহ| দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নানা ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা গঠিত হয়েছে| এগুলির মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান এবং মালদ্বীপ- দক্ষিণ এশিয়ার 7 টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত "দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা" বা SAARC ( সার্ক )  বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ| উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভের পর দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলি সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এক সংহতিবোধ প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করেছিল| 1985 সালে ৮ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের ঢাকায় এক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ- এই 7 টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ এক সনদে স্বাক্ষর করে SAARC বা সার্ক গঠন করেন| এটি ছিল এই রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের| সার্ক- এর সনদে 1 নম্বর ধারায় সার্ক গঠনের উদ্দেশ্যসমূহ বিশদে বলা হয়েছে|
সার্ক-এর-উদ্দেশ্য-The-objective-of-SAARC

India, Bangladesh, Pakistan, Sri Lanka, Nepal, Bhutan and the Maldives flags


সার্ক- এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশীয় জনগণের কল্যাণ সাধন ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন| পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক প্রগতি ও সংস্কৃতির বিকাশ এমনভাবে ঘটানো, যার ফলস্বরূপ সার্ক সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলির প্রতিটি নাগরিক সমমর্যাদার সঙ্গে জীবন-যাপনের সুযোগ পায় এবং তাদের মধ্যেকার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটে| দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলির মধ্যে যৌথ আত্মনির্ভরতার মনোভাব সুদূর করনে পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতার মাধ্যমে একে অপরের সমস্যার প্রতি সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করা ছিল সার্ক এর অন্যতম সমস্যা| আর্থসামাজিক, কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসার ঘটানো ছিল সার্ক এর অন্যতম উদ্দেশ| আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে সার্ক এর সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলির সাধারণ স্বার্থগুলির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতা স্থাপন করা ছিল সার্ক এর অন্যতম উদ্দেশ্য|


উক্ত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণের জন্য সার্ক কতকগুলি নীতি মেনে চলে| এক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখন্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং পররাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতা বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার ভিত স্থাপন করবে| এই সহযোগিতা হবে তাদের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পরিপূরক এবং এক্ষেত্রে সকল সিদ্ধান্ত এক ঐক্যমতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে| উক্ত নীতিসমূহকে অবলম্বন করে দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে সার্ক কাজ করে চলেছে|

সার্ক এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলি মহৎ হলেও সার্ক ভুক্ত রাষ্ট্রগুলি বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বিশ্ব বাণিজ্যের মাত্র 5 শতাংশ| সাক ভুক্ত রাষ্ট্রগুলির সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে ভারতের আধিপত্য ভারত সম্পর্কে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলির মধ্যে এক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, যা সার্ক এর সাফল্যকে অনেকাংশ ব্যর্থতার পর্যবেশিত করেছে|

                   ...............................

SHARE

Author: verified_user

0 Comments: