Monday, 26 November 2018

আসিয়ানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য | Goals and objectives of ASEAN

SHARE
Association of Southeast Asian NationsASEAN অথবা আসিয়ান ) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক আঞ্চলিক সহযোগিতা মুলক সংস্থা, যা 1967 খ্রিস্টাব্দে 8 ই আগস্ট এটি  মূলত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল| আসিয়ান এর মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পারস্পরিক অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি| ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় আসিয়ানের সদর দপ্তর স্থাপিত হয়|
আসিয়ানের-লক্ষ্য-ও-উদ্দেশ্য-Goals-and-objectives-of-ASEAN

Indonesia, Malaysia, Philippines, Singapore and Thailand flags


ব্যাংকক ঘোষণায় আসিয়ানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে,
  1. সদস্য রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক বিকাশ, সামাজিক প্রগতি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য আসিয়ান কাজ করবে|
  2. বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে সদস্য রাষ্ট্রগুলির যাতে দর কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তার উদ্যোগ নেওয়া হবে|
  3. একই সঙ্গে একটি যৌথ জাতীয় চেতনার উদ্বোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে থাকবে সমতা, জাতীয় উন্নয়ন, জাতীয় পরিচিতি সত্ত্বেও ঐক্য এবং শান্তি ও স্থিতি  প্রভৃতি|
  4. তবে "ব্যাংকক ঘোষণার" সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিতে বলা হয়েছে যে, সমস্ত বিদেশি সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ইচ্ছাধীন হবে এবং কোন ভাবেই এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলির জাতীয় স্বাধীনতা ও উন্নয়নে পরিপন্থী হিসাবে ঘাটিগুলিকে ব্যবহার করা যাবে না|
  5. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আসিয়ান সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নীতিগুলি মেনে চলবে| অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে, আইনের অনুশাসন ও ন্যায়ের প্রতি সম্মান|

1976 খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্দোনেশিয়া বালি শহরে প্রথম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা "ASEAN Concord" নামে পরিচিত| সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মিত্রতা ও সহযোগিতা চুক্তি সাক্ষরের মাধ্যমে সংগঠনের মৌলিক নীতিগুলি লিপিবদ্ধ করেন| সদস্য রাষ্ট্রগুলি পারস্পরিক স্বাধীনতা, সাম্য,সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখন্ডতা ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে| বহির্দেশীয় হস্তক্ষেপ ও প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় অস্তিত্ব অক্ষুন্ন রাখার অধিকার অর্জন করবে| পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে অন্য রাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপ কাম্য ছিল না| বল প্রয়োগ থেকে বিরত হয়ে সম্ভাব্য সকল বিরোধী মীমাংসা শান্তিপূর্ণ পদ্ধতির মাধ্যমে করাই ছিল আসিয়ানের অন্যতম উদ্দেশ্য| এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অর্থনীতির প্রশংসনীয় উন্নতি হয়েছে|

                ................................
SHARE

Author: verified_user

0 Comments: