ইউরোপের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভৌগলিক আবিষ্কারের প্রভাব

ইউরোপীয় শক্তিগুলির ভৌগলিক আবিষ্কার ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা| এর ফলে আফ্রিকা, এশিয়া ও পশ্চিম গোলার্ধের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগ স্থাপিত হয়| গড়ে ওঠে ইউরোপের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য| ইউরোপের আর্থ-সামাজিক জীবনের উপর সামুদ্রিক কার্যকলাপ ও ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের প্রভাব পড়েছিল| অধিকাংশ পন্ডিতই মনে করেন করেন, ঔপনিবেশিক কার্যকলাপের জন্য ইউরোপের "বাণিজ্য বিপ্লব" ঘটেছিল|

ইউরোপের-অর্থনৈতিক-উন্নয়নে-ভৌগলিক-আবিষ্কারের-প্রভাব
বানিজ্য জাহাজ


অধ্যাপক H. M. Robertson মনে করেন, নতুন নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয়দের কাছে নতুন নতুন সুযোগ খুলে গিয়েছিল| আমেরিকা আবিষ্কারের ফলে ইউরোপে মূলধনের সঞ্চয় বৃদ্ধি পায় এবং আমেরিকার বাজারের চাহিদা যোগান দিতে পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়| অন্যদিকে আমেরিকা থেকে আনা মূল্যবান ধাতু এশিয়ার বাজারের প্রয়োজন মেটাতো|


জনৈক ঐতিহাসিক এর মতে, আমেরিকার কাঁচামাল বিশেষ করে মূল্যবান ধাতুতে ইউরোপে প্রাথমিক ভাবে লাভবান হয় এবং ষোড়শ-সপ্তদশ শতকের ইউরোপীয় পুঁজিবাদের ভিত্তি রচিত হয় এবং আমেরিকার আবিষ্কারের সুদূর প্রসারী ফলে অষ্টাদশ-উনিশ শতকে ইউরোপীয় পুঁজিবাদ আরও সমৃদ্ধ হয়| এদিকে এশিয়ার বাণিজ্য থেকেও ভালো মুনাফা হওয়ায় মূলধনের সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়| আবার মূল্যবৃদ্ধি ও মূলধন তৈরির সাহায্য করেছিল, কারণ মজুরি বৃদ্ধি মূল্য বৃদ্ধির তুলনায় কম ছিল| এর সম্মিলিত প্রভাবে ইউরোপের অর্থনীতিতে যুগান্তর এনে দিয়েছিল| জাহাজ নির্মাণ শিল্প থেকে শুরু বস্ত্র শিল্প সব ক্ষেত্রেই গতিশীলতা লাভ করে|

ইউরোপের-অর্থনৈতিক-উন্নয়নে-ভৌগলিক-আবিষ্কারের-প্রভাব
পর্তুগালের রাজধানী লিসবন


পশ্চিম ইউরোপ এবং অন্যান্য মহাদেশ যেমন- আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়ার পর্তুগীজদের নৌ সামরিক বিস্তারের ফলে ঘনিষ্ঠ অর্থনীতি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে| অ-ইউরোপীয় দেশগুলিও ইউরোপীয় সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল| বলা যায়, এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি সৃষ্টি হয়|পৃথিবীর সমগ্র মশলা বাণিজ্য পর্তুগাল ও স্পেনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়| এই মশলা বাণিজ্য এবং প্রাচ্য দেশের বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য নতুন যে, বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল এবং তা ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র ইউরোপের, এমনকি আটলান্টিক পেরিয়েও| পর্তুগিজরা এক ত্রিকোণ বাণিজ্য পথে বাণিজ্য শুরু করেছিল, যাতে প্রাচ্যের বন্দরগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এবং পশ্চিম আফ্রিকার দাসরা আটলান্টিক দ্বীপগুলিতে উপনিবেশিক ব্যবস্থা স্থাপন ও তার উন্নতিতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল| বিশেষ করে চিনি বাণিজ্যের সাথে দাসদের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছিল|

ইউরোপের-অর্থনৈতিক-উন্নয়নে-ভৌগলিক-আবিষ্কারের-প্রভাব
মশলার বাজার


নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উদ্ভাবিত করে ছিল নতুন বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি| সমাজের বণিকরা বিশেষ গুরুত্ব লাভ পেতে শুরু করেছিল| বাণিজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছিল এবং এর পিছনে ছিল সাগরপারের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো| পূর্বের প্রতিষ্ঠানগুলির তুলনায় অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন ছিল| প্রকৃতপক্ষে ইউরোপীয় বিস্তৃতির ফলে নতুন নতুন যৌথ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠে| এই যৌথ বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির কার্যকলাপের হাত ধরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার উত্থান ঘটে|

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভূমধ্যসাগরের পতন ছিল নতুন নতুন ভৌগোলিক আবিষ্কারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব| কারণ তখন আটলান্টিক হয়ে উঠেছিল আমেরিকা, আফ্রিকার উপকূল এবং প্রাচ্য দেশের পৌঁছানোর রাজপথ| ষোড়শ শতকে মশলা বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ভেনিস থেকে লিসানে সরে যায়| বল্টিক বন্দর গুলির গুরুত্ব কমতে শুরু করে| জেনোয়া, মার্সেইলি, বার্সেলোনার প্রাধান্য কমে যায়| পক্ষান্তরে আটলান্টিক বন্দর গুলির শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে থাকে| স্পেনের কার্টিজ, সেডিল, ফ্রান্সের বর্দো, ইংল্যান্ডের আন্টওয়ার্প ও আমস্টারডাম প্রভৃতি বন্দরগুলি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে|


তথ্যসূত্র

  1. অধ্যাপক গোপালকৃষ্ণ পাহাড়ি, "ইউরোপের ইতিবৃত্ত"
  2. C. Warren Hollister, "Medieval Europe: A Short History".

সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    Note: Email me for any questions:

    :-Click here:-.

    Note:- please share your feedback:

    :--Click here:--.

    Your Reaction ?

    Share this post with your friends

    please like the FB page and support us

    Previous
    Next Post »

    Top popular posts