ভারতবর্ষে মুঘল বা মোগল সাম্রাজ্যের প্রকৃতি ও কার্যাবলীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা

বহু বিশেষজ্ঞ Mughal বা মুঘল বা মোগল  সাম্রাজ্যকে রাষ্ট্র গঠনে বিবিধ নমুনা বলে উল্লেখ করেছেন| কিন্তু কেউই মোগল সাম্রাজ্যকে বৃহত্তর পটভূমিতে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করিনি| তারা কেউই এক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মোগল সাম্রাজ্যকে বিচার করেনি| এই দৃষ্টিকোণ থেকে মোগল রাষ্ট্রকে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, মোগল সাম্রাজ্য ছিল স্বৈরতান্ত্রিক, পারসিক, ভারতীয়, তুর্কি, মোঙ্গল এবং প্রাচ্যে শাসন ব্যবস্থার সমন্বয়|

সুতরাং মোগল সাম্রাজ্যকে বিশ্লেষণ করে চিরাচরিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটা সম্পূর্ণ নমুনা বা প্রতিরূপ হিসাবে নির্দিষ্ট করা সম্ভব নয়| প্রকৃত তথ্য বা উপাদানের অভাবে হেতু গবেষকরা মোগল সাম্রাজ্যের প্রকৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত ব্যাখ্যা করেছেন| এর ফলে মোগল রাষ্ট্রের প্রকৃতি বিষয়ে একটা ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে|

ভারতবর্ষে_মুঘল_বা_মোগল_সাম্রাজ্যের_প্রকৃতি_ও_কার্যাবলীর_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা

  মুঘল সাম্রাজ্যের মানচিত্র

Author- Santosh.mbahrm
Date- 26 September 2015
Source- wikipedia (check here)
License- GNU Free Documentation License


বিভিন্ন অনুমানের উপর নির্ভর করে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, বৃটিশ রাজত্বকাল মোগল শাসনের উত্তরাধিকারী এবং এটা খুব নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ব্রিটিশ শাসনকাল ছিলো বিভিন্ন দিক থেকে মোগল শাসন পদ্ধতির অনুসরণ| উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, মোগলদের মতোই ব্রিটিশ সরকার শাসন ব্যবস্থাকে দুটি মুল শাখার বিভক্ত করেছিলেন| একটা হল সামরিক এবং অপরটি হলো রাজস্ব| শুধু তাই নয় ব্রিটিশরা মোগল প্রশাসনের মতো কেন্দ্রীভূত অসামরিক শক্তিকে প্রতিটি স্তরে এবং মোগল প্রশাসনের বিভাজনকে অনুসরণ করেছিলেন|

মোগল রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহ, আইন পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল সীমিত| এর ফলস্বরূপ মোগল যুগে ভূমি বিশেষজ্ঞ মোগল শাসন ব্যবস্থাকে একটি উচ্চ কাঠামোযুক্ত সামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেছে| অনেক লেখক মোগল যুগে মনসবদারি ব্যবস্থার প্রচলিত স্তর বিন্যাসকে ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থার সৈন্যবাহিনীর বিন্যাস, তাদের বেতন, পদোন্নতির, নিয়ম নীতি এবং সেনাপতি এবং সৈন্য বাহিনীর মধ্যে ফাঁক প্রভৃতির সঙ্গে তুলনা করেছেন|

মনসবদারি ব্যবস্থা ছিল মোগল যুগে একটি আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা| এই ব্যবস্থা অনুযায়ী সাম্রাজ্য, প্রদেশ, জেলা, উপজেলা, প্রশাসনিক এককে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি এককে সামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং অর্থ বিভাগীয় কর্মীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতেন| এই প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষুদ্রতম এককের একটা যোগসূত্র ছিল, প্রতিটি সরকারি কর্মচারী তার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মচারীকে কাজের জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকতেন| এই সকল বিশেষজ্ঞগণ মোগল সরকারকে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে এক উচ্চ পদ্ধতিগত প্রশাসনিক এবং আইনগত কাঠামোযুক্ত অনুন্নত সংস্করণ বলে অভিহিত করেছেন|

ভারতবর্ষে_মুঘল_বা_মোগল_সাম্রাজ্যের_প্রকৃতি_ও_কার্যাবলীর_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা

      অ্যাডাম স্মিথ

Source- wikipedia (check here)
Modified- colour and background
License- creative commons


মোগল প্রশাসনকে পর্যালোচনা করার পূর্বে আমরা প্রাক আধুনিক রাষ্ট্রের নমুনা নিয়ে পর্যালোচনা করব, যা পিতৃতান্ত্রিক-আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত| কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এই মডেল বা নমুনা পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়নি| তবে বেশ কিছু সংখ্যক উপাদান ধর্মাশ্রিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়| তবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বলা যায় যে, অর্থনীতি ছিল অবাধ বাজারি অর্থনীতি| এই ব্যবস্থা অনেকটা অ্যাডাম স্মিথের অর্থনৈতিক মডেল অনুসারী ছিল| তাই এই সাম্রাজ্যকে "patrimonial bureaucratic বা পিতৃতান্ত্রিক-আমলাতান্ত্রিক" নামে অভিহিত করা বাঞ্চনীয়|

মোগল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমরা প্রথমেই পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্র সম্পর্কে মাক্স ভেবার-এর চিন্তা ধারা বিষয়ে পরিচিত হই| এই ধারণা অনুযায়ী পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসক শাসনকার্য পরিচালনা করেন পিতৃতান্ত্রিক পরিবার সুরভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ও পরিবারের পিতা যে কর্তৃত্ব থাকে এবং পরিবারের সদস্যগণ যেমন তার প্রতি অনুগত থাকে, ঠিক তেমনি এরূপ শাসন ব্যবস্থায় শাসকের প্রতি প্রজাদের আনুগত্য বজায় থাকে এবং এই আনুগত্য কার্যালয়গত নয়, এটি নির্ভর করে প্রজা-শাসকের আনুগত্য এর উপর|

মাক্স ভেবার এর মতে, পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে যখন প্রভু এবং রাজপুরুষেরা তাঁদের প্রজাদের ওপরে তাদের ক্ষমতাকে সম্প্রসারিত করে তার নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে| আর এইভাবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব যা ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল তা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক, সামরিক এবং বিচার বিভাগীয় হয়ে ওঠে, যেখানে এই কার্য পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত কর্মচারী প্রয়োজন হয়|

সাম্রাজ্য যখন আরো প্রসারিত হয় এবং বিশাল আকার ধারণ করে তখন সামরিক এবং বিচার বিভাগীয় শক্তি দ্বারা চরম এবং অlনিয়ন্ত্রিত কর্তৃত্বের দ্বারা শাসন চালানোর চেষ্টা করেন| এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে পিতৃতান্ত্রিক ধারণাযুক্ত রাজনৈতিক সংগঠনের দুটি দিক আমরা আলোচনা করতে পারি|যথা, প্রথমটি হলো- পিতৃতান্ত্রিক রাজত্ব হয় ক্ষুব্ধ এবং প্রশাসনিক সংগঠনগুলি হবে পরস্পর সন্নিহিত, যেমন পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের থাকবে| দ্বিতীয়টি হল- পিতৃতান্ত্রিক-আমলাতান্ত্রিক সাম্রাজ্য হলো বৃহৎ| এরূপ সাম্রাজ্যের শাসকগন বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা এবং পদ্ধতির সাহায্য গ্রহণ করেন তা ব্যক্তিগত কৃতিত্ব বজায় রাখার জন্য|

মোগল রাষ্ট্র শাসনকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আবুল ফজল "আইন-ই-আকবরী"তে মোগল প্রশাসনকে আকবরের নিজস্ব ধারণা এবং পরিকল্পনা বলে অভিহিত করেছেন| মোগল রাষ্ট্রকাঠামো "আইন-ই-আকবরী" অনুসারে সম্পূর্ণভাবে ছিল আকবরের মস্তিস্ক প্রসুতি| মোগল শাসকরা ছিলেন তুর্কি| বাবর ছিলেন এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা| যাকে চাঘতাই তুর্কি বলা হত এবং যিনি ছিলেন তৈমুরের বংশধর| তাই মোগল শাসকদের মধ্যে মোঙ্গল এবং পারসিক শাসকদের প্রভাব লক্ষ করা যায়| চেঙ্গিস খান এর রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিল মোগল সাম্রাজ্যে অনেকটাই কাছাকাছি এবং বিশুদ্ধ পিতৃতান্ত্রিক ঘরনা|

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মোগলদের কর্মচারীদের এক একটি উপাধি ছিল| যেমন চেঙ্গিস খান  এর সেনাবাহিনীর অধিকর্তা পরিচিত ছিল "কুক" নামে এবং কিছু উচ্চ পদমর্যাদারভুক্ত কর্মচারীর উপাধি ছিল "পঞ্চমপুত্র"| পারসিকরা একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলে ছিল| এই ব্যবস্থা যে শুধুমাত্র মোগলরা অনুসরণ করছিল তাই নয়, অন্যান্য তুর্কি শাসকরাও অনুসরণ করেছিল| পারসিকরা একটি নিয়ম অনুসারে কর সংগ্রহ এবং উচ্চ পর্যায় ভুক্ত আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং চিরাচরিত শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল|

আকবর পিতৃসুলভ আমলাতান্ত্রিক সাম্রাজ্য ভারতবর্ষে গঠন করেছিলেন, যেখানে বিশুদ্ধ এবং পদ্ধতিগতভাবে রাষ্ট্রীয় উপাদানের সমন্বয় ঘটেছিল| এই ব্যবস্থা তিনি ভারত ও পশ্চিম মধ্য এশিয়া থেকে গ্রহণ করেছিলেন| আকবরের পূর্ববর্তী সুলতানি শাসন এবং সুলতানি শাসনের পূর্ববর্তী মৌর্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে আকবর তার এই পিতৃসুলভ আমলাতান্ত্রিক কাটামো গ্রহণ করেছিলেন| তিনি পিতৃতান্ত্রিক-আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং বাস্তববাদী সম্মত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে একটি সমন্বয় সাধন করেছিলেন|



ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যাবলী

মোগল শাসন ব্যবস্থায় সম্রাট ছিলেন সমন্বয় ক্ষমতার অধিকারী| তিনি আইন, প্রশাসন এবং বিচার প্রভৃতি সকল ক্ষমতার ছিলেন একমাত্র আধার| তিনি নিজেকে ঈশ্বরের খলিফা বা প্রতিভূ বলে দাবি করতেন| মোগল বাদশাহরা হলেও স্বৈরাচারী ছিলেন না| সম্রাট আকবর রাজকার্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন| আকবর জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার যে ধারা প্রবর্তন করেছিলেন তাঁর বংশধররা তা থেকে বিচ্যুত হয়নি|

মন্ত্রী ও তার কার্যাবলী

কেন্দ্রের প্রশাসন চালাবার জন্য চারজন মন্ত্রীকে মোগল শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়োগ করা হয়| এরা ছিলেন -
  • প্রধানমন্ত্রী
  • উজির বা দেওয়ান
  • মীর বক্সী বা সামরিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী
  • সদর-উস-সুদূর বা ধর্মীয় ও দাতব্য| এছাড়া ছিলেন প্রধান কাজী বা বিচারক|

প্রাদেশিক শাসন 

ভারতবর্ষে_মুঘল_বা_মোগল_সাম্রাজ্যের_প্রকৃতি_ও_কার্যাবলীর_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা

যুদ্ধ পতাকা, সাম্রাজ্য সীল, জাতীয় পতাকা

Author- Santosh.mbahrm
Date- 26 September 2015
Source- wikipedia (check here)
License- GNU Free Documentation License


আকবরের শাসন ব্যবস্থায় প্রদেশের তেমন গুরুত্ব ছিল না| আকবর জায়গীর প্রথা উচ্ছেদ করে সমগ্র সাম্রাজ্যকে 15টি সুবাদে ভাগ করে| সুবাদগুলিকে আকবর সরকার এবং সরকারগুলিকে পরগনায় ভাগ করা হয়| কিছু সংখ্যক গ্রাম নিয়ে পরগনা গঠিত হয়| সুবার প্রধান নিয়ে সুবাদার বা সিপাহশালা|

সুবাদার ছিলেন সম্রাটের প্রতিনিধি| সুবার শাসন পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রজাদের ধন-প্রাণ রক্ষা তার দায়িত্ব ছিল| প্রদেশের অন্যতম কর্মচারী ছিলেন দেওয়ান| তার দায়িত্ব ছিল রাজস্ব আদায়, তিনি রাজস্বের হিসাবও রাখতেন| কৃষকদের ঋণ প্রদানও ছিল তার কাজ| প্রদেশের অন্যতম কর্মচারী ছিলেন সদর-উস-সুদূর| তিনি প্রদেশের ধর্মীয়, দাতব্য বিভাগ পরিচালনা করতেন| এই সকল কর্মচারী ছাড়াও ছিলেন আমিল, কারকুল, পোতদার, ফৌজদার, কৌতয়াল প্রভৃতি কর্মচারীরা| 

রাজস্ব প্রশাসন

মোগলযুগে ভূমি রাজস্ব ছাড়াও বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায় করা হতো| মোগলযুগে পরাজিত শত্রুর কাছ থেকে যে সম্পত্তি দখল করা হত তা এক পঞ্চমাংশ ছিল রাষ্ট্রের| বাণিজ্য শুল্কের হার ছিল মুসলমানদের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ এবং হিন্দুদের ক্ষেত্রে 5%, ইউরোপীয় বণিকরা 4%  শুল্ক  দিত| এছাড়া চুঙ্গি কর, শিল্প ও কারিগরদের উপর কর, বাজার, খনি, অরণ্য থেকেও কর আদায় করা হতো|

ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা 

ভারতবর্ষে_মুঘল_বা_মোগল_সাম্রাজ্যের_প্রকৃতি_ও_কার্যাবলীর_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা

 কৃষক



মোগল রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল ভূমি রাজস্ব|টোডরমলের আমলে তিন প্রকার ভূমি ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, যথা- জাবতি প্রথা , গাল্লাবক্স প্রথা, নাসাক প্রথা| জাবতি প্রথায় উৎপাদনের ভিত্তিতে জমিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়, যথা- কোলাজ, করৌটি, চাঁচর এবং বানজার| জাবতি প্রথা অনুযায়ী উৎপাদন ফসলের 1 এর 3 ভাগ রাজস্ব আদায় করা হতো| গাল্লাবক্স প্রথা অনুসারে ফসলের 1/3 অংশ রাজস্ব আদায় করা হতো এবং নাসাক প্রথা অনুসারে উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ বিবেচিত করে রাজস্ব নির্ধারিত করা হতো| রাজস্ব বিভাগ কার্য পরিচালনা পরিচালনার জন্য ছিল আমিল, বিটিকচি|

মনসবদারি প্রথা

মনসব কথাটির অর্থ ছিল পদমর্যাদা| আবুল ফজলের মতে, আকবর মনসবদারদের 66 টি স্তর ধার্য করেন| এই স্তরে ছিল সর্বনিম্ন 10 জন অশ্বারোহী এবং সর্বোচ্চ ছিল 10,000 জন অশ্বারোহী| মনসবদার পদের সঙ্গে জাট ও সওয়ার কথা দুটি জড়িয়ে আছে| জাট বলতে অশ্বারোহী ও পদাতিক মিলিয়ে মোট সেনাকে বুঝাতো এবং সওয়ার বলতে শুধু অশ্বারোহী সেনাকে বুঝাতো|

ভারতবর্ষে_মুঘল_বা_মোগল_সাম্রাজ্যের_প্রকৃতি_ও_কার্যাবলীর_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা
অশ্বারোহী সৈন্য

ভারতবর্ষে_মুঘল_বা_মোগল_সাম্রাজ্যের_প্রকৃতি_ও_কার্যাবলীর_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা
পদাতিক সৈন্য


মনসবদারদের বেতন তার অশ্বারোহী সংখ্যা দ্বারা স্থির হতো| মনসবদারদের বেতন নগদে বা জায়গীরে দেওয়া হতো| 500 পদের মনসবদার মাসে 2500 টাকা বেতন পেত| 7000 মনসবদার বেতন পেতেন 25000 টাকা| মনসবদারদের মৃত্যু হলে তার সম্পত্তি বাদশাহী দপ্তর দখল করে নিতো|

সামরিক সংগঠন 

মনসবদার ছাড়াও সম্রাট এর নিজস্ব বাহিনী ছিল| মোগল সেনার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল পদাতিক বাহিনী| বন্দুক, তরবারি, বল্লভ, তীর ধনুকধারী বিভিন্ন ভাগে সেনাদল বিভক্ত ছিল| মোগল যুগে রণহস্তীও ছিল| এদের সংখ্যা ছিল এক হাজার| মোগল যুগে গোলন্দাজ এবং নৌবাহিনী বাহিনীও ছিল| মীরবহর নামে কর্মচারী নৌবাহিনী দেখাশুনা করত| নদীপথে সেনা পাঠানো, বাণিজ্য, রণহস্তীগুলিকে পারাপার প্রভৃতি ছিল নৌবহরের কাজ|

বিচারব্যবস্থা 

মোগল যুগে কোরান ছিল আইনের প্রধান উৎস| উলেমা বা মুসলিম শাস্ত্রবিদরা কোরান ও হাদিসের ব্যাখ্যা দিতেন| বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন স্বয়ং সম্রাট| প্রধান কাজী কেন্দ্রে, প্রদেশের রাজধানী ও নগরে অন্যান্য কাজীরা মামলার বিচার করতেন| মোগল যুগে অঙ্গচ্ছেদ, জরিমানা প্রভৃতি শাস্তি দেওয়া হত|

সর্বশেষে মোগল প্রশাসন ব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করলে দেখা দেখা যায়, শাসকরা স্বৈরাচারী ছিল এ  কথা সত্য, কিন্তু জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনে তারা চেষ্টা করেছিলেন|


তথ্যসূত্র

  1. সতীশ চন্দ্র, "মধ্যযুগে ভারত"
  2. শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, "অষ্টাদশ শতকের মুঘল সংকট ও আধুনিক ইতিহাস চিন্তা"
  3. অনিরুদ্ধ রায়, "মোগল সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের ইতিহাস"
  4. শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, "পলাশী থেকে পার্টিশন"

সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|

              ......................................................

Note: Email me for any questions:

:-Click here:-.

Your Reaction ?

Previous
Next Post »

আপনার মতামত শেয়ার করুন ConversionConversion EmoticonEmoticon

Top popular posts