মুঘল আমলে সেচ ব্যবস্থা

মুঘল আমলে ভারতীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি ছিল কৃষি| দেশের প্রায় 80 ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল|

এই আমলে কৃষি সরঞ্জাম, উন্নত সেচ ব্যবস্থা, উন্নত সার পদ্ধতি ও উপযুক্ত বীজ বপনের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার যে উন্নতি ঘটেছিল, তা উল্লেখ করেছেন- ইরফান হাবিব, তপন রায় প্রমূখ ঐতিহাসিকগণ| এছাড়াও সমসাময়িক গ্রন্থাদি তথা আবুল ফজলের(আরো পড়ুন) "আইন-ই-আকবরি" থেকে এই যুগের কৃষি ব্যবস্থার সম্পর্কে বহু তথ্য পাওয়া যায়|

মুঘল-আমলে-জলসেচ-ব্যবস্থা
মুঘল সাম্রাজ্যের মানচিত্র
Author- Santosh.mbahrm
Date- 26 September 2015
Source- wikipedia (check here)
License- GNU Free Documentation License

                    


এই আমলে কৃষকরা কৃষি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতেন- লাঙ্গল, ভারি লোহার ফোলা, মই, নিড়ানি, কাস্তে ও কোদাল প্রভৃতি| অধ্যাপক জগদীশ নারায়ন সরকার বলেছেন, "মুঘল আমলে নিবিড় চাষ, দো ফসলি, তিন ফসলি উৎপাদন কৃষকের আয়ত্তে ছিল"| এই আমলে সার হিসাবে ব্যবহার করা হতো গোবর ও সামুদ্রিক মাছ|

এই আমলে ফসলের প্রকৃতি ছিল খাদ্যজাত ফসল, অর্থকারী ফসল ও বাণিজ্যিক ফসল|   ঐতিহাসিক মোরল্যান্ড বলেছেন- "সপ্তদশ শতকে প্রধানত গৃহস্থালি প্রয়োজনে দড়ি তৈরির জন্য পাট ব্যবহৃত হতো"|


মুঘল আমলে সেচ ব্যবস্থা

প্রাচীন মধ্যযুগে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সুযোগ ছিল না বটে, তবুও কৃষির সাথে যুক্ত তথা শাসক বর্গের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে জল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও সেচের ক্ষেত্রে উন্নয়ন মূলক কাজের বহু চেষ্টা করেছিল| মুঘল আমলে ওয়াটার সিস্টেম এর উল্লেখ পাওয়া যায়|

মুঘল-আমলে-জলসেচ-ব্যবস্থা


"আইন-ই-আকবরি"তে নতুন জল আটকানোর বিভিন্ন পদ্ধতি সমূহ এই গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে| বিপাশা, শতদ্রু, চন্দ্রভাগা, ইরাবতী ও সিন্ধু এই পাঁচটি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কথা মুঘল আমলে পাওয়া যায়| এই যুগে বিভিন্ন কারণে বাঁধ নির্মাণ করা হতো, যেমন- 
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য| 
  2. এই জল যেন শহরে ঢুকতে না পারে, তা ব্যবস্থা করা| 
  3. এই যুগে যে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হতো, সেই অঞ্চলে বৃষ্টির জলকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হতো|
প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাঁধ নির্মাণ ব্যবস্থা ছিল খুবই জরুরী| বিভিন্ন এলাকার জমিদাররা বাঁধ নির্মাণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রচুর অর্থ পেতেন| এই সময় বাঁধ ছাড়াও ধাপ বাঁধ ছিল|

মুঘল-আমলে-জলসেচ-ব্যবস্থা
বাঁধ


ধাপ বাঁধ

পাহাড়ের ঢাল অঞ্চলে ধাপ বাঁধ তৈরি করা হতো| এই ব্যবস্থায় জল পুরোপুরি না আটকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল আটকে রাখে এবং বাকিটা প্রবাহিত হয়ে যায়|

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকের দুই পাহাড়ের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে বিজয়নগর রাজ্যে বাঁধের সাহায্য হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এর দৈর্ঘ্য ছিল 800 ফুট ও প্রস্থ ছিল 100 ফুট| 1650 খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহাজান 50 হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে কৃষকদের বাঁধ নির্মাণের জন্য ঋণ দান করেছিলেন|

এই যুগের সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল, সেই পরিকল্পনাগুলি ছিল, নিম্নরূপ-

ঢেঁকলী পদ্ধতি 

মুঘল-আমলে-জলসেচ-ব্যবস্থা
কূপ


দাক্ষিণাত্যের শক্ত মাটিতে কূপ খননের জন্য একদল পেশাদারী খননকারী তৈরি হয়েছিল| কূপ থেকে জল উত্তোলনের জন্য এই ঢেঁকলী পদ্ধতির বহুল প্রচলন ছিল এবং এই পদ্ধতিতে জমির নিকটবর্তী জলাশয় থেকে সেচ দিয়ে জমিতে জল পাঠানো হতো|


চসার পদ্ধতি

এই পদ্ধতিতে কুলির সাহায্যে জল তোলা হতো এছাড়াও চামড়ার বালতি ভরে বলদের সাহায্যে জল বহন করে সেচ দেওয়া হতো|


সাঁকিয়া পদ্ধতি 

এই পদ্ধতিতে বলদের সাহায্যে বড় চাকা ঘুরিয়ে একসঙ্গে অনেক জল তোলা হতো| এই পদ্ধতি ছিল যথেষ্ট ব্যয়বহুল, তাই কেবল কেবল ধনী চাষিরাই সাঁকিয়া পদ্ধতি গ্রহণ করতেন|

পুকুর কেটে বা উঁচু বাঁধ দিয়ে জলাধার তৈরি করে, সেই জল জমিতে সেচ দেওয়ার পদ্ধতি ভারতে বেশ জনপ্রিয় ছিল| কৃষকদের চাষের জন্য জলাশয় খনন করে দেওয়ার পুণ্যকর্ম বলে বিবেচনা করা হতো|


নদী উপত্যকা অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থা

জমিতে সেচের কাজে কাজে নদী থেকে খাল কেটে জল সরবরাহ করার ব্যবস্থা ছিল খুবই জনপ্রিয়| গঙ্গা, যমুনা ও সিন্ধু থেকে প্রচুর খাল কাটা হয়েছিল|

ফিরোজ তুঘলকের আমলে তৈরি সাকিদুল খাল মুঘল আমলে শুকিয়ে গিয়েছিল এবং দিল্লির গভর্নর সেই খালটি সংস্কার করে সেচের উপযুক্ত করেছিল| শাহজাহানের আমলে পাঞ্জাবে বেশকিছু খাল কাটা হয়েছিল, যেমন- রাভি থেকে লাহোর পর্যন্ত 200 মাইল লম্বা সেচ খাল, পাঠান কোট খাল, বাটলা খাল প্রভৃতি|

এইভাবে মুঘল আমলে জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছিল বলে, ইরফান হাবিব, তপন রায় চৌধুরী প্রমুখগণ অভিমত পোষণ করেছেন|



তথ্যসূত্র

  1. সতীশ চন্দ্র, "মধ্যযুগে ভারত"
  2. শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, "অষ্টাদশ শতকের মুঘল সংকট ও আধুনিক ইতিহাস চিন্তা"
  3. অনিরুদ্ধ রায়, "মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের ইতিহাস"

    সম্পর্কিত বিষয়

    সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|

                  ......................................................

    নবীনতর পূর্বতন
    👉 Join Our Whatsapp Group- Click here 🙋‍♂️
    
        
      
      
        👉 Join our Facebook Group- Click here 🙋‍♂️
      
    
    
      
    
       
      
      
        👉 Like our Facebook Page- Click here 🙋‍♂️
    
    
        👉 অনলাইনে মক টেস্ট দিন- Click here 📝📖 
    
    
    👉 আজকের দিনের ইতিহাস - Click here 🌐 🙋‍♂️
    
    
        
      
               
    
     Join Telegram... Family Members
      
         
                    
                    
    
    
    
    
    
    
    

    টেলিগ্রামে যোগ দিন ... পরিবারের সদস্য

    
    
    
    
    
    
    
    
    
    

    নীচের ভিডিওটি ক্লিক করে জেনে নিন আমাদের ওয়েবসাইটটির ইতিহাস সম্পর্কিত পরিসেবাগুলি

    
    

    পরিক্ষা দেন

    ভিজিট করুন আমাদের মক টেস্ট গুলিতে এবং নিজেকে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুত করুন- Click Here

    আমাদের প্রয়োজনীয় পরিসেবা ?

    Click Here