মুঘল মুদ্রা ব্যবস্থা

মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসে মুঘল শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো মুঘলদের মুদ্রা ব্যবস্থা| অবশ্য মুঘল শাসন ব্যবস্থার পূর্বে ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল| প্রথম পর্যায়ে শের শাহ সোনা, রুপা এবং তামার মুদ্রা চালু করেন, যা পরে মুঘলরা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়|

মুঘল-মুদ্রা-ব্যবস্থা

                    মুঘল সাম্রাজ্যের মানচিত্র

                Author- Santosh.mbahrm
               Date- 26 September 2015
             Source- wikipedia (check here)
 License- GNU Free Documentation License



মুঘল শাসন ব্যবস্থার মুদ্রা ছিল তিন ধরনে, যথা- সোনা, রুপা ও তামা| মুঘলদের মুদ্রা ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল, মুদ্রাগুলি ছিল বিশুদ্ধ এবং সমান মাপে| মুঘলদের প্রধান মুদ্রা রুপির ওজন ছিল 178 গ্রেন| মুঘলদের সময়ে সোনার টাকা "মোহর" বা "আশরফি" নামে পরিচিত ছিল|

স্বর্ণমুদ্রাগুলি প্রধানত সঞ্চয় কাজে ব্যবহৃত হতো| এছাড়াও বাজারে উচ্চ লেনদেনের সময় তামার মুদ্রা প্রচলন ছিল, যার ওজন ছিল 323 গ্রেন| আওরঙ্গজেবের সিংহাসন আরোহণের সময় থেকেই তামার সরবরাহ কমে গেলে, সম্রাট তামার অজন 1/3 অংশ কমিয়ে দেন| 

মুঘলদের মুদ্রা ব্যবস্থা সবথেকে বড় সুবিধা ছিল যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত টাকশাল বা কোষাগারগুলি থেকে মুদ্রাগুলি মুদ্রিত হতো| আকবরের রাজত্বকালের শেষের দিক থেকে তখনকার টাকশালর সংখ্যার একটি পরিসংখ্যান নিম্নে আলোচনা করা হল-
ধাতু   -- টাকশালর সংখ্যা  --   মুদ্রার ওজন
 1.সোনা ---          4           ---------        169
 2.রুপা  -----       14.         --------         178
 3.তামা ----         42         ---------         323


আওরঙ্গজেবের সময়ে সারাদেশের রুপার টাকশাল বেড়ে দাঁড়ায় 40 টি| এর পাশাপাশি অন্যান্য টাকশালের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কাজকর্ম এবং লেনদেনের বিস্তৃতি ঘটে| মুঘল আমলে টাকশাল শুধু সরকারি নিয়ন্ত্রণে ছিল না, বেশ কিছু টাকশাল বেসরকারি তথা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল| 

টাকশাল থেকে প্রতিবছর মুদ্রা মুদ্রণের সময় টাকশালের নাম, মুদ্রার বছর খোদাই করা থাকত, যা থেকে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত হতো| সম্রাট আকবরের সময় তামার যোগান কম থাকার জন্য তাম্র মুদ্রার দাম বেশি ছিল|

সপ্তদশ শতক থেকে ছোটখাটো লেনদেনের জন্য তামার "দাম" প্রচলন ঘটে| মুঘল যুগে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ''দাম" ছিল প্রচলিত মুদ্রা এবং ছোটখাটো কেনা-বেচার জন্য মুঘলরা করির ব্যবহার করত| 

মিরাতুল আহামুদিতে মুঘলদের হুন্ডির ব্যবহারের এক বর্ণনা পাওয়া যায়| মুঘল যুগে হুন্ডির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে মুঘলদের অভাব হতো না|

মুঘল-মুদ্রা-ব্যবস্থা
সোনা, রুপা ও তামার মুদ্রা


অধ্যাপক ইরফান হাবিব দেখিয়েছেন যে, ইউরোপীয়দের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ফলে ভারতের বাজারে রুপার সরবরাহ 2/3 অংশ বেড়ে যায়, কিন্তু তবুও মুঘল যুগের মুদ্রাস্ফীতি ঘটে|

তবে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, মুঘল যুগের শেষের দিকে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছিল, তা মুঘল শাসনকে অনেকটাই ত্বরান্বিত করেছিল|

পরিশেষে আমাদের বলতে কোন দ্বিধা নেই যে, মুঘল যুগে ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থার যে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তার গুরুত্ব অনস্বীকার্য|


তথ্যসূত্র

  1. সতীশ চন্দ্র, "মধ্যযুগে ভারত"
  2. শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, "অষ্টাদশ শতকের মুঘল সংকট ও আধুনিক ইতিহাস চিন্তা"
  3. অনিরুদ্ধ রায়, "মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের ইতিহাস"
  4. শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, "পলাশী থেকে পার্টিশন"

    সম্পর্কিত বিষয়

    সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|

                  ......................................................

    Note: Email me for any questions:

    :-Click here:-.

    Note:- please share your feedback:

    :--Click here:--.

    Your Reaction ?

    Share this post with your friends

    please like the FB page and support us

    Previous
    Next Post »

    Top popular posts