টং হ্যাক বিদ্রোহ

1894-95 সালের চীন-জাপান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল কোরিয়ার "টং-হ্যাক বিদ্রোহ"| টং-হ্যাক কথাটির অর্থ হলো প্রাচ্যের শিক্ষা(Eastern learning)| 1890 এর দশকের শুরুতে কোরিয়ার টং হ্যাক নামের এক বিশাল জাতীয়তাবাদী সামন্ত বিরোধী কৃষক অভ্যুত্থান ঘটে| 

টংহ্যাক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চোয়ে-চে-উ(1824-64)| সরকারি নিপীড়ন এবং খ্রিস্ট ধর্মের প্রসারে বীতশ্রদ্ধা হয়ে তিনি "টং-হ্যাক" নামে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলেন| এই সম্প্রদায় ছিল বৌদ্ধ ধর্ম, কনফুসীয় মতবাদ এবং তাও মতবাদের সংমিশ্রণ| কোরিয়ার সরকার এই সম্প্রদায়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং 1864 সালে চোয়ে-চে-উকে হত্যা করে| এর পরই সংগঠনটি গুপ্ত সমিতির পরিণত হয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সংগঠিত করতে শুরু করে|

টং-হ্যাক-বিদ্রোহ
বিদ্রোহ

কালক্রমে এই টং-হ্যাক সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ এমন চেহারা নেয় যে, কোরিয়ার সরকার চীনের মাঞ্চু সম্রাটের কাছে সামরিক সাহায্য চান| ইতিপূর্বে 1885 সালে চীন ও জাপানের মধ্যে এই মর্মে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল যে, কোন দেশেই অপর দেশকে না জানিয়ে কোরিয়ার ভূখণ্ডে সেনাবাহিনীর পাঠাতে পারবে না| 

কাজেই চীন যখন কোরিয়ার রাজার অনুরোধে উত্তর কোরিয়ায় সেনাবাহিনী পাঠালো, তখন জাপানও 1885 চুক্তি উদ্বৃত করে দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনা পাঠায়| এরই ফলশ্রুতি ছিল চীন-জাপান যুদ্ধ(1894-95)| এই যুদ্ধে চীনের পরাজয় ঘটে এবং 1895 সালের মার্চ মাসে উভয়ের মধ্যে শিমনোসেকির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়|


তথ্যসূত্র

  1. অমিত ভট্টাচার্য, "চীনের রূপান্তরের ইতিহাস 1840-1969"
  2. Jonathan Fenby, "The Penguin History of Modern China".

সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    Note:- Please share your comment for this post :

    :

    --Click here:--

    Mock Test

    Visit our Mock Test Episodes - (click here)

    Share this post with your friends

    please like the FB page and support us

    Previous
    Next Post »