ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব

1688 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে স্টুয়ার্ট বংশের রাজা দ্বিতীয় জেমসের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিরক্ত হয়ে মানুষজন বিক্ষোভে সামিল হলে, রাজা দ্বিতীয় জেমস ফ্রান্সে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন| এই বিক্ষোভে কোন রকম রক্তপাত ছাড়াই ইংল্যান্ডের শাসক বদল হয় এবং রাজার ক্ষমতা হ্রাস করে পার্লামেন্টের শাসন প্রচলনের পথ তৈরি হয় বলে এটি "ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব" বা "1688 বিপ্লব"| 1688 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে গৌরবময় বিপ্লবের পর যে ব্যবস্থাগুলি গৃহীত হয়েছিল, তা বিবর্তিত হয় বিংশ শতকে সরকার গঠনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল|

ইংল্যান্ডের_গৌরবময়_বিপ্লব

      বিক্ষোভ



এই বিপ্লবে Bill of Rights দ্বারা রাজতন্ত্রের ক্ষমতা হ্রাস এবং পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়| ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডে যাতে স্বৈরতন্ত্র গড়ে না ওঠে, তার জন্য ব্যবস্থা করা হয়| Bill of Rights দ্বারা স্থির হয় যে, রাজা পার্লামেন্টের কর্তৃক গৃহীত আইনগুলি বাতিল অথবা উপেক্ষা করতে পারবে না| পার্লামেন্টের অনুগামী ছাড়া রাজা নিজ ক্ষমতার বলে হাইকোর্ট, কমিশন কোট বা এই ধরণের কোন আদালত স্থাপন করতে পারবে না|


1689 খ্রিস্টাব্দে মিউনিটি অ্যাক্ট দ্বারা রাজাকে এক বছরের জন্য স্থায়ী সৈন্যবাহিনী গঠনের অধিকার দেওয়া হয়| এর ফলে রাজা সামরিক প্রয়োজনে প্রতিবছর পার্লামেন্টের অধিবেশন রাখতে বাধ্য থাকবেন| এছাড়াও স্থির হয় যে, পার্লামেন্টের নির্বাচনে কোন হস্তক্ষেপ করতে পারবে না| একমাত্র প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বীরাই ইংল্যান্ডের রাজা হতে পারবে| পার্লামেন্টের সদস্যদের মধ্যে স্বাধীন মতামত প্রকাশ এবং পার্লামেন্টের বারংবার অধিবেশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়| এইসব কারণে রাজার ক্ষমতা সংকুচিত হয় এবং বিংশ শতকে সরকারের বিবর্তনের পিছনে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল|

রাজা ও পার্লামেন্টের মধ্যে কে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হবে, সেই প্রশ্নের মীমাংসা পার্লামেন্টের পক্ষে গিয়েছিল| এই বিপ্লব ইংরেজ জাতির রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পার্লামেন্টের স্থাপন করেছিল|


গৌরবময় বিপ্লব ইংল্যান্ডের সাংবিধানিক বিবর্তনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন| লঙ পার্লামেন্টের সময় থেকে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টের দলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল| আর এই বিপ্লবের পর থেকে শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টের শাসনের যুগ| এতদিন পর্যন্ত রাজার ইচ্ছায় জনগণের ইচ্ছা বলে বিবেচিত হতো, কিন্তু 1688 খ্রিষ্টাব্দের পর পার্লামেন্টের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়ে থাকে|

রাজার উত্তরাধিকারের দাবি নাকচ হয়ে যায় এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া রাজা নির্বাচিত হবে না এই কথা স্থির হয়, ফলে পার্লামেন্টের শর্ত মেনে পার্লামেন্টের অনুমোদন ক্রমে রাজশক্তি ইংল্যান্ডে থাকতে পারবে এই নিয়ম চালু করা হয়| সুতরাং আধুনিক যুগে সরকারগুলি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি গৌরবময় বিপ্লবের ফলে গৃহীত ব্যবস্থা সমূহের মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গিয়েছিল|


তথ্যসূত্র

  1. Charles River Editors, "England in the 17th Century".
  2. Charles River Editors, "The Glorious Revolution".

সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    Note:- Please share your comment for this post :

    :

    --Click here:--

    .

    Share this post with your friends

    please like the FB page and support us

    Previous
    Next Post »

    Top popular posts