দাস ব্যবসা এবং ইউরোপের উপর তার প্রভাব

পঞ্চদশ শতকে নতুন নতুন ভৌগোলিক আবিষ্কার তৎকালীন ইউরোপের অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল| উপনিবেশ আবিস্কারের সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্প্রসারণ করতে থাকে| 

এই সময় ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, চিনির উৎপাদন ও তার রপ্তানি| আর এই চিনি উৎপাদনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল দাসত্বের ইতিহাস| এই চিনি কারখানাগুলোতে নিযুক্ত দাসত্বের উপর নির্ভর করে ইউরোপীয় সভ্যতা পুরনো পৃথিবী থেকে নতুন জগতে প্রবেশ করে এবং এবং শুরু হয় দাস ব্যবসা|

দাস_ব্যবসা_এবং_ইউরোপের_উপর_তার_প্রভাব


15 শতকের পর থেকেই বিভিন্ন উপনিবেশগুলোতে প্রচুর চিনির উৎপাদন শুরু হয় এবং এই চিনির কারখানাগুলোতে কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয় অসংখ্য দাসের| প্রয়োজনীয় দাসের অভাব পূরণের জন্য শুরু হয় লাভজনক দাস ব্যবসা| তবে এই দাসের যে শুধু কালো মানুষ ছিল তা নয়, কিন্তু উপনিবেশিকরণ এর শুরুর দিকে খামারের দাসেরা কৃষ্ণকায় ছিল|

দাস_ব্যবসা_এবং_ইউরোপের_উপর_তার_প্রভাব


এই সময় দাস ব্যবসার জন্য Asiento নামে এক চুক্তি স্বাক্ষর করা হতো| একজন ঠিকাদার(contractor) যিনি সমগ্র দাস ব্যবস্থা সংগঠিত করতেন, তিনি এই চুক্তি স্বাক্ষর করতেন| সরকার তাকে sub-contractorদের লাইসেন্স বিক্রি করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আর এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ রাজকোষে প্রেরণ করা হতো| দাস বাণিজ্যে এইসব দালাল ও উপদালালরা আফ্রিকা থেকে দাস সংগ্রহ করে আমেরিকাতে পাঠাতেন| 16 শতকে স্পেন আমেরিকায় দাস সরবরাহ জন্য মূলত পর্তুগীজদের উপর নির্ভর করত| 1596 খ্রিস্টাব্দে প্রথম পর্তুগীজদের Asiento দেওয়া হয়েছিল|


প্রথমদিকে দাস ব্যবসায় পর্তুগীজদের আধিপত্য থাকলেও পরবর্তীকালে ফ্রান্সের ফ্রেঞ্চ গিনি কোম্পানি এই ব্যবসার একচেটিয়া অধিকার পায়| ক্রমশ এই ব্যবসা লাভজনক হয়ে উঠলে ইংরেজ ও ডাচদের প্রলোভিত করেন| এই ব্যবসায় আধিপত্য লাভের জন্য যুদ্ধও হয় এবং 1713 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা দাস ব্যবসার অধিকার লাভ করে Utrecht এই চুক্তির মাধ্যমে| এরপর থেকে ইংরেজরা হয়ে ওঠে দাস বাণিজ্যের প্রধান বণিক|


ইউরোপের উপর দাস ব্যবসার প্রভাব

দাস_ব্যবসা_এবং_ইউরোপের_উপর_তার_প্রভাব

Source- wikipedia (check here)
Modified- colour and background


তৎকালীন ইউরোপের আর্থিক সমৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি ছিল এই দাস ব্যবসা ও দাসদের শ্রম| কারণ অধিকৃত উপনিবেশগুলোর যেসব অঞ্চলে জনসংখ্যা কম ছিল, সেখান থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বিভিন্ন প্রকার শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদনের প্রয়োজনে দাসদের নিযুক্ত করা হতো| এইভাবে 17 শতকে ইউরোপের উপনিবেশগুলিতে দাসদের দ্বারা পণ্য উৎপাদন করে ইউরোপ তার আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটিয়েছিল|

তাই বলা যায় যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উৎপাদনের মূল ভিত্তি ছিল দাসদের শ্রম এবং উপনিবেশগুলি নির্ভর করত দাসদের উৎপাদিত পণ্যের উপর| 17 ও 18 শতকের বাণিজ্যিক অগ্রগতিতে ব্রিটেনের আর্থিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই দাস ব্যবসা তথা দাসদের শ্রম| উৎপাদনশীল এই শ্রমিকরা শিল্পায়নের নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল|

জনৈক ঐতিহাসিক বলেছেন যে, "18 শতকে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এক শৈল্পিক গতিতে বৃদ্ধি পায়, তার সাথে বাড়ে জাতীয় উৎপাদন, যার অন্যতম কারণ ছিল আমেরিকার দাস নির্ভর অর্থনীতি "|

এক কথায় বলা যায়, এই দাস বাণিজ্য ইউরোপের অগ্রগতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল|


তথ্যসূত্র

  1. Hugh Thomas, "The Slave Trade: History of the Atlantic Slave Trade, 1440-1870".
  2. Jesse, Jr. Torrey, "American Slave Trade".

সম্পর্কিত বিষয়

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    Your Reaction ?

    Previous
    Next Post »