Sunday, 9 September 2018

সতীদাহ প্রথা নিয়ে বিতর্ক

প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা ভারতে সতীদাহ প্রথাকে কেন্দ্র করে 1780 থেকে 1833 খ্রিস্টাব্দ অবধি সময়কালে দীর্ঘ বিতর্ক চলছিল| এই বিতর্কে সঙ্গে যুক্ত ছিল তিন পক্ষ- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরকার , উদীয়মান শিক্ষিত ভদ্র লোক এবং ইউরোপীয় মিশনারিগণ| 1818 খ্রিস্টাব্দে কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন আনস্টুথার কলকাতার মধ্যে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেছিলেন| মাশম্যান এর মতে কলকাতায় সতী হতে ইচ্ছুক মহিলারা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গিয়ে সতী হত|

সতীদাহ-প্রথা-নিয়ে-বিতর্ক
সতীদাহ প্রথা 

শ্রীরামপুরের মিশনারিগণ সতী হওয়া ঘটনাগুলিকে লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন| 1789 - 1829 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সরকার সতী সম্পর্কে চারটি নীতি নির্দেশ করেছিল| নিজামত আদালতের পণ্ডিত ঘনশ্যাম শর্মা প্রথম 1805 খ্রিস্টাব্দে সতী সম্পর্কে তার মতামত দেন| এর উপর ভিত্তি করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরকার 1813 খ্রিস্টাব্দে প্রথম সতী সম্পর্কে নির্দেশ জারি করে  বলেছিল, "সতীদাহ ব্যবস্থা একটি শাস্ত্র সমন্বিত বিষয়, সতী স্বেচ্ছায় এবং 16 বছরের বেশি হতে হবে, মাদকদ্রব্য সেবন করিয়ে কাউকে সতী করা যাবে না, সতী হতে হলে ম্যাজিস্টেটের অনুমতি নিতে এবং এর পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলা ও শিশু পুত্রের জননী সতী হতে পারবে না"|

1813 থেকে 1817 খ্রিস্টাব্দে মধ্যে সতীর ব্যাখ্যা বেড়ে যেতে থাকলে সতীপ্রথাকে কেন্দ্র করে সরকারি মহলে বিতর্ক উঠেছিল যে, সতী বাঞ্ছনীয় কিনা এবং এই ব্যবস্থা উচ্ছেদ হলে কি সমস্যা দেখা দিতে পারে| 1818 খ্রিস্টাব্দ থেকে কলকাতার শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সতী নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল| রামমোহন রায়(আরো পড়ুনআত্মীয় সভার মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা বিরোধিতা করেন|সতীকে ধর্মের নামে এক নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড বলে বর্ণনা করে তিনি লিখেন, "No widow ever voluntarily ascended on and entered into the flames".  কিন্তু রক্ষণশীলদের সংস্থা ধর্মসভা এবং তাদের পত্রিকা সমাচার চন্দ্রিকা সতীপ্রথাকে শাস্ত্র সম্মত বলে আখ্যা দিয়ে এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়| আবার অন্যদিকে রামমোহনের সংবাদ কৌমুদী এবং মিশনারিদের সমাচার দর্পণ পত্রিকা কমাগত সতীপ্রথার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যেতে থাকে| রক্ষণশীলদের অন্যতম মুখপাত্র কাশীনাথ তর্কবাগীশ  প্রমুখরা সতীপ্রথা অবসানের ফলে দেশে অনাচার দেখা দিবে বলে মনে করেন| অন্যদিকে রামমোহন  ভারতীয় শাস্ত্র থেকে উদ্বৃত্ত সংযোগে দেখান যে, যা গল্প অমুক বোন বিধবা জীবন যাপন করতে মনু, যাগ্য বল্ক্য গল্প প্রমূখ দার্শনিকগণ বিধবাদের শুদ্ধ সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করতে বলেছিলেন| রামমোহন 1819 খ্রিষ্টাব্দে যে আবেদন করেছিলেন, তাতে বাংলার দায়ভার আইন তুলে ধরে মহিলাদের বঞ্চনার দিকটি বলা হয়েছিল|

সতী বিতর্কে তৃতীয় পক্ষ ছিল খ্রিস্টান মিশনারীগণ|উইলিয়াম কেরীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর মিশনের সদস্য প্রমুখগণ এদেশের ধর্ম, শিক্ষা, সমাজ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন| ওয়াড Hindoos নামে গ্রন্থতে সতীপ্রথা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন| কল্ড বুকানন ইংল্যান্ডে গিয়ে মিশনারি নেতা উইলবাগফোসকে সতী সম্পর্কে যে পুস্তিকা দিয়েছিলেন তা উইলবাগফোস 1813 খ্রিস্টাব্দে চাটার  বিতর্কে ব্যবহার করেছিলেন| Friend of India পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে সতীপ্রথাকে আক্রমণ করা হয়| অবশেষে উপযোগবাদী দর্শনের অনুগামী গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক সৈন্যবাহিনীর অফিসারদের সঙ্গে পরামর্শ করে 1829 খ্রিষ্টাব্দে 4 ডিসেম্বর সতীপ্রথাকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেন| এই ঘোষণার ফলে, রক্ষণশীলদের সংগঠন ধর্মসভা এই আইনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের কাছে আপিল করলে 1832 খ্রিস্টাব্দে কাউন্সিল আইনের স্বপক্ষে তার অভিমত ব্যক্ত করেছিল|

             ................................................


Thank you so much for reading the full post. Hope you like this post. If you have any questions about this post, then please let us know via the comments below and definitely share the post for help others know.

Related Posts

0 Comments: