Tuesday, 15 January 2019

সাহিত্য ও শিল্পের উপর রেনেসাঁ এর প্রভাব

রেনেসাঁ বা নবজাগরণের মুক্ত হাওয়া জীবনের যেদিকগুলিকে সর্বাধিক আন্দোলিত করেছিল, তাদের মধ্যে উন্নত হল সাহিত্য ও শিল্প| বস্তুত পঞ্চদশ শতকের পরবর্তীকালে আধুনিক সাহিত্য ও শিল্পরসের উদ্ভব ঘটে| আবার নবজাগরণের ফলে জন্ম নেই মানবতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ| এর উপরেই ভিত্তি করেই সাহিত্য বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়|

গীর্জার নিয়ন্ত্রণমুক্ত ধর্মীয় বিশ্বাসে না দেখা, না জানা বিষয় বস্তুকে পরিত্যাগ করে সাহিত্য ও শিল্পরস হয়ে উঠে প্রকৃত অর্থেই জীবনমুখী| "শিল্পের জন্য শিল্প"- এই বোধ শিল্পকলার জগতে নিয়ে আসে অভূতপূর্ব বৈচিত্র ও প্রাণ স্পন্দন|

Saturday, 12 January 2019

হুং সিউ চুয়ান

তাইপিং বিদ্রোহের(1851-1968) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন হুং সিউ চুয়ান(Hung Hsiu Chuan)| 1814 খ্রিস্টাব্দে কোয়াংটং প্রদেশের একটি কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন| 18 বছর বয়সে তিনি গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন|

জাপানের ইতিহাসে ডাইমিয়ো এবং সামুরাই বলতে কি বুঝায়

এশিয়ার ভূখণ্ডে পূর্বতম প্রান্তে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত জাপান হলো একটি দ্বীপপুঞ্জ| জাপানিরা তাদের দেশকে বলতো নিপ্পন বা সূর্যোদয়ের দেশ|জাপানের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন সম্রাট বা মিকাভো| তিনি ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং নিজেকে সূর্যদেব এর বংশধর বলে দাবি করতেন| তবে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা শোকান বা প্রধান মন্ত্রীর হাতে ছিল|

Friday, 11 January 2019

মেইজি যুগের মুদ্রা ব্যবস্থার অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা

মেইজি বা মেজি যুগে আধুনিক শিল্প গড়ে তোলার পূর্ব শর্ত হিসাবে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটানো হয়| 

পুরাতন ও জটিল মুদ্রা ব্যবস্থা বাতিল করে জাপানি নেতারা মুদ্রা ব্যবস্থার দশমিক পদ্ধতি ও স্থিতিশীল মুদ্রা প্রবর্তন করেন| এই উদ্দেশ্যে মার্কিন মুদ্রা ব্যবস্থার সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য একটি কমিশনকে আমেরিকায় পাঠাতে হয়|

চীনের ইতিহাসে মুৎসুদ্দি শ্রেণীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা

আফিম যুদ্ধের পরবর্তীকালে চীনের উপকূলবর্তী অর্থনীতিতে পশ্চিমী শক্তিগুলির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে চীনা বুর্জোয়া শ্রেণীর একাংশ সম্পদশালী হয়ে উঠেছিল| এদের সম্পদের উৎস ছিল যুদ্ধের লুন্ঠিত দ্রব্য, সামরিক তহবিল তছরুপ, অভ্যন্তরীণ শুল্ক এবং দালালি| বুর্জোয়া শ্রেণী হঠাৎ ধনী হওয়ার এই অংশ চীনের ইতিহাসে মুৎসুদ্দি শ্রেণী বা comprador class নামে পরিচিত|

Thursday, 10 January 2019

চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসে একশত দিনের সংস্কার বা সংস্কারবাদী আন্দোলন

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে চীনের সংস্কার আন্দোলনের হাওয়া উঠে| এক কথায় আমাদের বলা উচিত যে, সেই সময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক রাজপুরুষও সংস্কার চাই ছিলেন| 1898 খ্রিস্টাব্দে 11 ই জুন সম্রাট কুয়াংসু একটি রাজকীয় আদেশ জারি করেন এবং সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন| এরপর 100 দিন ধরে বিভিন্ন সংস্কারমূলক আইন প্রবর্তিত হতে থাকে| 100 দিন ধরে প্রবর্তিত এইসব সংস্কারমূলক আইনকে "100 দিবসের সংস্কার" বা "একশত দিনের সংস্কার" বা "সংস্কারবাদী আন্দোলন" বলা হয়|

বস্তুত "একশত দিনের সংস্কার" নামে পরিচিত হলেও, এর মোট সময়কাল ছিল 103 দিনের (11 ই জুন 1898-16 সেপ্টম্বর 1898)| এই আন্দোলনের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন কাং ইউ ওয়েই|

চীনের  মানচিত্র



1898 খ্রিস্টাব্দে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ধরনের রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে তৎকালীন চীনের শাসন ক্ষেত্রে, শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং রাজনীতিতে কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চালু হয়েছিল| অপ্রয়োজনীয় পদ ও দপ্তরগুলি তুলে দেওয়া হয়েছিল| মাঞ্চুদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার রীতি বন্ধ করে দেওয়া হয়| ব্যয়বহুল গ্রীন স্ট্যান্ডার্ড বাহিনী অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা করে বাতিল করা হয়|

সম্রাট কুয়াংসু সংস্কারের ফলশ্রুতি হিসাবে পুরনো ও অব্যবহৃত মন্দিরগুলি একটি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছিল| এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, তৎকালীন সময়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল| বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে রাজনীতি ও বিজ্ঞান চর্চা আবশ্যিক বিষয় হিসাবে মান্যতা দেওয়া হয়, এর সঙ্গে সঙ্গে নতুন গবেষণা এবং আবিষ্কারকে উৎসাহিত করার জন্য গবেষককে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল| একটি অনুবাদ কমিটির উপর বিদেশী বই অনুবাদ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল|

সংস্কার আন্দোলন যখন বিভিন্ন প্রদেশে সরিয়ে পড়ে, তখন কিছু চিন্তাবিদ বিভিন্ন মতাদর্শকে স্থায়ী রূপ দিতে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন| এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাং ইউ ওয়েই| তার চিন্তায় মানব সভ্যতার ইতিহাসে অগ্রগতির তিনটি যুগ ছিল, যথা- প্রথমটি ছিল বিশৃঙ্খলার যুগ, দ্বিতীয়টি ছিল আসন্ন শান্তির যুগ এবং তৃতীয়টি ছিল মহান শান্তির যুগ|

সংস্কার পন্থীরা ক্ষমতায় এসে একটি সরকারি বাজেট তৈরি করার দিকে নজর দেন| এই সময় দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় বা দপ্তর চীনে খোলা হয়| একটি দপ্তর পেল নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং খনি সংক্রান্ত বিষয়গুলি এবং দ্বিতীয়টি দপ্তরটি কৃষি, শিল্প এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখাশোনার দায়িত্ব পেল|

তবে 100 দিনের সংস্কার শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল|বিধবা সম্রাজ্ঞী জু-সি ছিলেন প্রতিক্রিয়াশীল এবং সংস্কার বিরোধী| তিনি ইউ-ইয়াং-সি-কাও নামে জনপ্রিয় সামরিক নেতার সাহায্যে গ্রহণ করে সম্রাটকে কুয়াংসুকে গ্রেফতার করেন এবং চীনে একশো দিনের সংস্কারের অবসান ঘটে|

এই সংস্কারের ব্যর্থতা আলোচনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক জ্যাক গ্রে বলেছেন, 100 দিবস ব্যর্থ হয়েছিল কারণ চীনের জনমত তখনও অসংগঠিত ও অস্পৃষ্ট ছিল| সংস্কারপন্থীরা তাদের কর্মসূচিতে কৃষির উন্নতির পথে চূড়ান্ত অবহেলা প্রদর্শন করেছিল|তদানীন্তন চীনে কৃষির উন্নতি না ঘটিয়ে অন্য কোন উন্নতি করা মোটেই সম্ভব ছিল না| সংস্কার আন্দোলনের ব্যর্থতার পরেই একটি বৃহৎ গণবিদ্রোহ প্রায় সমগ্র চীনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে|

তথ্যসূত্র 

  1. অমিত ভট্টাচার্য, "চীনের রূপান্তরের ইতিহাস 1840-1969"
  2. Jonathan Fenby, "The Penguin History of Modern China".
সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ| আশাকরি আমাদের এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলো| আপনার যদি এই পোস্টটি সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে জানতে সাহায্য করুন|
                     .......................................

    রুশ-জাপান যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ের কারণ সমূহ

    রুশ-জাপান যুদ্ধে(1904-1905 খ্রিস্টাব্দ) রাশিয়ার পরাজয় প্রাচ্যের কোন শক্তির হাতে পাশ্চাত্য কোন জাতির প্রথম পরাজয়| সামরিক শক্তি এবং রাষ্ট্রের আয়তনের দিক থেকে বিচার করলে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বেশ ভালো পার্থক্য ছিল এবং এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাপানের রণ কৌশলের পরিচয় পাওয়া যায়| 

    যুদ্ধে প্রভূত্ব কর্তৃত্বের পরিচয় দিলেও জাপান অন্তত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তার পক্ষে যুদ্ধ জয়ের সম্পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করার মত মানসিকতা তার মধ্যে অবশিষ্ট ছিল না| অপরদিকে রাশিয়ার আবার নতুন করে জাপানের বিরুদ্ধে সমর সজ্জা শুরু করলে, সুদূর প্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে যুক্ত রাষ্ট্রের নেত্রী মন্ডলী উভয়কে পোর্টসমাউথের সন্ধি আলোচনার জন্য আহ্বান করেন|